না করলেও পারি তবুও এমন একটি ভালো কাজ, একটু মানবিকতা যদি দেখাই তবে সেটা ছড়িয়ে যায়- জানি তো? আপনার দ্বারা যদি কেউ উপকৃত হয় তবে তাঁর মধ্যেও উপকারের ঋণ শোধ করার স্পৃহা জন্মায়। উপকারভোগী অন্য কাউকে সহায়তা করে তাঁর ওপরে যে ঋণ তা শোধ করে দেয়। এভাবেই ভালো আচরণগুলো সমাজে বিস্তৃত হয়। ভালোটা কাজের শুরুটা আপনাকে দিয়ে হতে পারে।
নিঃস্বার্থভাবে করা প্রতিটি ভালো কাজ কখনোই বিনিময়হীন যায় না। প্রত্যেক ভালোকাজ সদকাহ। আর সদকাহে আপনার অতীতের ভুল কাটে এবং ভবিষ্যতের বিপদ কমে যায়। অন্যকে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত হওয়ার পথ বিস্তৃত করার সুযোগ হাতছাড়া করা বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ নয়। এখন ভাবেন আপনি সদকাহ করবেন কি-না! সদকাহ শুধু সম্পদের দ্বারা নয় বরং সত্য কথা, সুপরামর্শ, ভালো ব্যবহার কিংবা হাসি বিনিময় দ্বারাও হতে পারে। যেকোনো পরিবেশে ভালো কাজ করার চেষ্টা করা জরুরি। পূণ্যের একটি বীজেও শতেক ফলবান, পুষ্প ধারক বৃক্ষ জন্মাতে পারে। প্রতিজ্ঞা করতে হবে, একটা দিনও যাতে ভালোকাজহীন না যায়।
আপনি চাকুরি করেন- সেখানে আপনার ওপর অর্পিত কাজ সম্পন্ন করা আপনার নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সেবাগ্রহীতার সাথে হাসিমুখে কথা বলা, তাকে একটু পরামর্শ দেওয়া, ভিক্ষুককে সাধ্যমত সাহায্য করা কিংবা বিপন্নের পাশে দাঁড়ানো- নিঃসন্দেহে শ্রেষ্ঠ কাজের অন্তর্ভুক্ত। সেগুলোই বড় বেশি ভালোকাজ যেগুলো করতে আমার ওপরে বাহিরের কারো কোন চাপ নাই বরং স্বেচ্ছায় ও স্ব উদ্যোগে স্বার্থহীনভাবে সাধন করেন। এসব কাজে আপনি বিনিময় চান না বটে কিন্তু উপকারভোগীর দোয়ায় এবং এলাহির ন্যায্যতায় আপনি এতো অধিক লাভবান হন যা দৃশ্যমান সম্পদের চেয়ে বহুগুণে দামি।
আসন্ন শীতে কোন বিপন্নকে একটি গরম কাপড় দিলে, এতিমকে একবেলা আহার করালে কিংবা অসহায়ের পাশে ভরসার মশলা নিয়ে দাঁড়ালে- আপনার চেয়ে মহৎ কোন প্রাণ নাই। মানুষের উপকার করার সৌভাগ্য সবার হয় না। আপনি যদি ভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হন তবে ভালো আচরণের সদকাহ সারাজীবন জারি রাখুন। মানুষের সাথে ভুলেও খারাপ ব্যবহার করবেন না। কারো কথা না শোনা, উপকার করতে না পারা অপরাধ নয় কিন্তু খারাপ ব্যবহার করা, গালি দেওয়া নিঃসন্দেহে অপরাধ। কাউকে অনর্থক কষ্ট দেওয়ার বাতিক আপনাকে যাতে কখনোই স্পর্শ করতে না পারে- ব্যক্তিত্বে দৃঢ় থাকুন।
ভালোকাজের শৃঙ্খলে নিজের স্থান নিশ্চিত করা জরুরি। মানুষের কাছ থেকে কোন বিনিময় প্রাপ্তির আশা ছাড়া যা কিছু করা হয় তাই উত্তম কাজ। মানুষ হিসেবে সর্বোত্তম হওয়ার জন্য দানের ক্ষেত্রে কৃপণতা করা ঠিক নয়। আপনি কারো হাসি-স্বস্তির কারণ হলে মানবজীবনকে ধন্য জানবেন। ভালো কাজে মানুষকে উৎসাহিত করাও গুরুত্বপূর্ণ সদকাহ। অনেক সম্পদ না থাকলেও যদি সম্মান থাকে সেটাই তবে শ্রেয়। কেউ সম্মানিত হবে নাকি অসম্মান বহন করবে সেটা মানুষের কাজ নির্ধারণ করবে।
সমাজের প্রত্যেক শুভকাজের সেতুতে আপনি পিলার কিংবা পাটাতন হয়ে থাকতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করবেন। অন্তত বালুকণা হিসেবে রাখার সুযোগ এলেও হাতছাড়া করবেন না। ভালো কাজের জন্য তেমন উল্লেখযোগ্য অর্থের দরকার হয় না বরং আন্তরিকতার প্রয়োজন। একটুখানি উদ্যোগ, স্বেচ্ছাশ্রম এবং নিয়ত আপনাকে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। প্রতিজ্ঞা করুণ, রোজ একটি হলেও ভালো কাজ না করে ঘুমাতে যাবেন না। যদি কথা রাখতে পারেন তবে এই সমাজ বদলাতে খুব বেশিদিন সময় লাগবে না। মানুষ মানুষের জন্য হয়ে ওঠার একটি সমাজ বিনির্মাণ এই সময়ের মোক্ষম চাহিদা।
রাজু আহমেদ, প্রাবন্ধিক।
raju69alive@gmail.com