নাঃগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ বিগত জুলাই আগষ্টের ছাত্র আন্দোলনের বিরুপ মনোভাবের লক্ষণ বর্তমানেও দৃশ্যতঃ দেশের সর্বস্তরে। জিঘাংসা মূলক আচরন যেন সর্বত্রই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এরই ধারাবাহিকতায় আবারও সাংবাদিকের উপরে সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র আক্রমনের খবর পাওয়া গেছে।
দ্বিতীয় দফায় হত্যার উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জে জাহাঙ্গীর মাহমুদ নামের সাংবাদিককে সন্ত্রাসীরা গুলি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সশস্ত্র অবস্থায় সন্ত্রাসীদের মহড়া ও গুলি করার ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে।
সাংবাদিক জাহাঙ্গীর মাহমুদ বলেন, কালবেলা পত্রিকায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ইয়াসিন মিয়া ওরফে ফেন্সি ইয়াসিনের বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মাদক, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ নানা অপরাধ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। মাসুদুর রহমান ওরফে কাইল্লা মাসুদ গ্রুপের হয়ে কাজ করছে ইয়াসিন ওরফে ফেন্সি ইয়াছিন । এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৫ দিন ধরে ইয়াসিন মিয়া ক্ষতিপূরণ বাবদ জাহাঙ্গীর মাহমুদের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। সংবাদ প্রকাশের জেরে ও দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেয়ায় ১৬ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ইয়াসিন মিয়া ওরফে ফেন্সি ইয়াসিনের নেতৃত্বে কাজল, রাব্বিল, রকি, ইমনসহ ৪০/৫০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সন্ত্রাসীরা ইট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ ও মাথা থেঁতলে দেয়। হামলাকারীরা বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে এলাকা ত্যাগ করে। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক রাসেল আহমেদ বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সাংবাদিক জাহাঙ্গীর মাহমুদ আরো বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই মাসুদুর রহমান ওরফে কাইল্লা মাসুদ, ইয়াছিন ওরফে ফেন্সি ইয়াছিন, কাজলসহ আসামী পক্ষের সন্ত্রাসীরা মামলা তুলে নিতে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। হুমকির ঘটনায় ৩০ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীর মাহমুদ বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। গতকাল রোববার দুপুরে মামলার আসামী রাব্বিল ও রকি নারায়ণগঞ্জ আদালতে জামিন চায়। আদালত আসামী রকিকে জামিন দিলেও রাব্বিলকে জামিন না দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে বিকেলে মাসুদুর রহমান ওরফে কাইল্লা মাসুদ ও ইয়াসিন ওরফে ফেন্সি ইয়াছিনের নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর মাহমুদুরের বাড়ি আশ-পাশের রাস্তা দিয়ে হোন্ডা মহড়া দেয় এবং গালিগালাজ করতে থাকে। রাত সাড়ে ৭টার দিকে জাহাঙ্গীর মাহমুদকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘরের জানালা দিয়ে গুলি ছুড়ে একদল সন্ত্রাসী। গুলিটি জানালা ছিদ্র হয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে যায়। অল্পের জন্য জাহাঙ্গীর মাহমুদের শরীরে লাগেনি। এতে করে এলাকায় জনমনে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাংবাদিক জাহাঙ্গীর মাহমুদ ও তার পরিবারের সদস্যরা।
এ ব্যপারে মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন।
ভুলতা পুলিশ ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।