শরীয়তপুরে নিষেধাজ্ঞার পরেও অবাধে চলছে কৃষি জমিতে মাছের ঘের কাটার উৎসব

103
Print Download PDF

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ শরীয়তপুর জেলা সদরসহ ছয়টি উপজেলায় চলছে মৎস্য ঘের তৈরির উৎসব সরকার কতৃক নিষেধ করার পরও থামছে না ঘের কাটার কাজ।তিন ফসলি কৃষি জমিতে কোন প্রকার ঘের বা স্থাপনা নিষেধ থাকলেও থোরাই কেয়ার করছে না প্রভাবশালী মহল।

জেলা বর্তমানে প্রায় শতাধিক ভেকু ব্যবহার করে কৃষি জমির টপ লেয়ার কেটে নেয়া হচ্ছে, ফলে বেকার হয়ে পরছে জাহার হাজার কৃষক। এই অপরিকল্পিত মৎস্য ঘেরের কারনে কৃষির যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রাস্তা সমুহ।

জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগ থেকে জানা যায় গতকাল সদর উপজেলার আটং এলাকায় অবৈধ ভাবে মাটি কাটার সময় একটি ভেকুকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এবং রুদ্রকর এলাকায় চারটি ভেকু আটক করে, তিনটি বিকল করে দেয়া হয়েছে ও একটি ভেকু তাদের অধিনে আটক করে রাখা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের ডেপুটি রেভিনিউ কালেক্টর আব্দুল্লাহ আল মামুন।

স্থানীয়দের অভিযোগ জেল জরিমানার পরেও থামছেনা ভেকু দিয়ে মাটি কাটা। সরেজমিনে দেখা যায় ভেদরগঞ্জ উপজেলার বালার বার, ছয়গা, সখিপুর, মহিষার, নারায়নপুর এলাকায় ভেকু দিয়ে মাছের ঘের তৈরির কাজ চলছে।

নারায়নপুর এলাকায় বসবাসকারী মামুন বিশ্বাস এবং চুন্নু খালাসি বলেন, এভাবে মাটি কেটে ফললে মাটির উপরের অংশ বিক্রি হয়ে গেলে ফসল উৎপাদন কমে যাবে এবং ভেঙে পরবে রাস্তা ও বিভিন্ন স্থাপনা।

সখিপুরের আলতাফ আকন, নুরুল ইসলাম পেদা, রশিদ বেপারী বলেন, এভাবে মাটি কাটার ফলে কৃষি উৎপাদন এর পাশাপাশি কৃষি শ্রমিক ও কমে যাচ্ছে।

প্রশাসনের লোকজন মাঠ এসে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পরে কিছু দিন বন্ধ ছিলো। এখন আবার সব কিছু ম্যানেজ করে চলছে ঘের কাটার উৎসব।  যার ফলে ঠেকানো যাবে না রাস্তা ভেঙে যাওয়া।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ডেপুটি রেভিনিউ কালেক্টর আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষি জমি রক্ষার প্রয়োজনে যারা কৃষি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে, ঘের করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।