এই প্রবাদ বাক্যটি তরিৎ গতিতে চলে রাজনীতিবিদদের কথা বার্তায়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর বন্ধুত্ব পরিধিবিহীন প্রেমের মুখরোচক গালগল্প শুনতে শুনতে স্বাধীনতার ৫৩ বছর অতিক্রম করে ৫৪ বছরে পদার্পন। আমরা দেখে আসছি বিনা মেঘে বর্জপাত, ভারত ভাঙ্গে বাবরি মসজিদ বাংলা ভাঙ্গে মন্দির। একই মুখে মধুর শুরে ডাকি মা আবার ডাকি সেই মুখেই সৎ মা। এযেন এক ভারত উপমহাদেশের বুকে আর্য – অনার্যের সাপলুডু খেলা।
এটা নতুন কোন ধুম্রজাল নয়, এটা গভীর বন্ধুতের মাঝে শক্ত প্রাচীর তৈরীর একটি অশনি সংকেত। ইতিপুর্বে এদেশে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন ছিলেন শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমান, হুসেন মোহাম্মদ এরশাদ, খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা- সহ সকল প্রয়াত/সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানগন। ভারতের সাথে মিশু-মিশু বাক্য ব্যবহারে পটু ছিলেন।
ক্রুসেড মানে ধার্মিক যুদ্ধ, ভারতের সাথে বাংলাদেশের কোন রাষ্ট্র প্রধান সহিশুদ্ধ সমাধান ও অনাকাংখিত অশুভ সংকট নিরসনে কোন রকম ফয়সালা দিতে পারেনি।
যায় দিন ভালো আসে দিন- যদি আর একটু ভাল হয়, এটা আমাদের দেশের মানুষের গভীর প্রত্যাশা এখন আপেক্ষিক, ঘুরে ফিরে রাজনীতির মাঠে এ কথাটাই আলোচনায়, বিশেষত ভারতের সঙ্গে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে আশার বাতিঘর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় দল, নেতা ও ছাত্রদের সঙ্গে বসেছেন দেশের বৃহত্তর স্বার্থে। সর্বশেষ বৈঠকটি ছিল, ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে, এই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করেই বলেছেন আমাদের সবার অধিকার সমান।
ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, আমাদের নানামত নানাধর্ম থাকবে, নানা রাজনীতি থাকবে কিন্তু আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। তিনি বলেন তিনি শপথ গ্রহনের সাথে সাথে শুনতে পারলেন, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে, ছুটে গেলেন ঢাকেশ্বরী মন্দির। সেখানে বললেন আমরা একই পরিবারের সদস্য, সব দাবী-দাওয়া বাদ দিয়ে একটি দাবী পরিস্কার, আমাদের সবার সমান অধিকার, বলার অধিকার, ধর্মের অধিকার, কাজ-কর্মের অধিকার যেটা সংবিধান থেকে এসেছে। যেটা নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেটা নিশ্চিত করা এই বাংলাদেশই আমরা চাই। যেখানে থাকবে না কোন ভেদাভেদ হানা-হানি, দেশের প্রশ্নে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সকলেই লাল সবুজ পতাকা বুকে ধারণ করে। এগিযে যাবে দেশ শান্তি-সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতির পথে। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চেতনার বাংলাদেশ। প্রধান উপদেষ্টার সব্যসাচী বাক্যটির সফলতা দেশবাসীর কাম্য।