একাত্তরের গল্পে
স্বজন হারানোর সরোবরে
স্বদেশের বুক ফাঁটা কান্নার ভিতরে
আগুন ছিল, আঠারো বছরের যুবক ছিল
কৃষক শ্রমিক কামার-কুমারও ছিল
মধ্য বয়সের পুরুষ ছিল
কঙ্কালসার মমতাময়ী মা ছিল
অনাহারী নারী ও শিশু ছিল
মৃত্যুর মিছিল ছিল
সর্বসাধারণের সমর্থন ছিল
পোড়ানোর উৎকট গন্ধ বাতাসে-বাতাসে
উড়ে উড়ে জমা হতো আকাশে আকাশে
একাত্তরের গল্পের ভিতরে
রাজাকার আল শামস আল বদর ছিল
হত্যাযজ্ঞের নৃশংস কাহিনি রচনা করেছিল
বুদ্ধিজীবি নিধনের নীলনকশার রুপকার ছিল
তারই ধারাবাহিকতায় মেধা শূন্যতার
বয়ে চলেছে বিরতিহীন অনন্য সাক্ষর
বর্তমানের গল্পে, থেমে থেমে
রাষ্ট্র সংস্করণের নামে
সুযোগের ছোবল হেনে
মেধাবী সন্তানেরে নেয় টেনে
মৃত্যুর গহ্বরে স্বদেশের বুক চিরে
ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের ভীড়ে
একাত্তর পূর্ব এবং পরে
ঐ রাজাকার এখনো স্বদেশ যোদ্ধার শিয়রে
মৃত্যু দেবতা রুপে
খড়গ চালায় কতো যে অপরুপে
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে
চালাবে খড়গ স্বাধীন দেশের ঘরে বাইরে
মমতাময়ী বেদনার দুয়ারে
এসে দাঁড়াবে বারে বারে
শোকে বিহ্বলতার রেশ কেটে মা‘যে আবার
নতুন গল্প বুনে যাবে ঘুরে দাঁড়ানোর।
কবি: আইনুন ম্যামি








