আইনুন ম্যামিঃ শৈশব কৈশর ঘিরে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান গুলো যাদের গলায়/কন্ঠে শুনে শুনে বড় হয়েছি পারিবারিক আবহে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন পাপিয়া সারোয়ার। “ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে বহে কিবা মৃদু বায়”- পাপিয়া সারোয়ারের কিন্নরী গলার সুরে সুরে শৈশব কৈশরের মন প্রজাপতির মত চঞ্চল হয়ে যেত। ছোট্টবেলার ভাল লাগার দিন গুলো পার করে চলে এসেছি বহু দুরের পথে। কিন্তু তিনি ও তার গলার সুর চির সবুজের মত স্থিত আছে, জীবনের প্রতি রন্দ্রে রন্দ্রে।
আজ ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ নিয়তির নির্মমতার কাছে, অসহায়ের মত শোকের কালো চাদরে মোড়ানো ‘সকাল’ দুয়ারে এসে ঘুম ভাঙ্গালো। পৌনে ৮টার দিকে তিনি ইহধাম ছেড়ে গেছেন পরধামের উদ্দেশ্যে। একুশে পদকপ্রাপ্ত বহুগুণে গুনান্বিতার অধিকারী শিল্পি সুদীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে যেমন রবীন্দ্র গীতির জন্য অফুরন্ত ভালবাসা পেয়েছেন, সংগীত জগতে আবার আধুনিক গানেও পেয়েছেন দর্শক শ্রোতার প্রাণ্জল ভালবাসা।
তাঁর জন্ম বরিশালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। ১৯৭৩ সালে ভারত সরকারের বৃত্তি প্রাপ্তিতে শান্তি নিকেতনে বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্র সংগীতের ডিগ্রী লাভে ভারত যান।
পাপিয়া সারোয়ার ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমী থেকে রবীন্দ্র পুরস্কার এবং ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমী ফেলোশীপ লাভের পরে ২০২১ সালে ২১শে পদক পান। শৈশব-কৈশর এর স্মৃতি বিজড়িত ভাললাগা ভালবাসার শিল্পীর সুরের ঢেউ ভাঙ্গে এখনও বুকের গহীনে। নাই টেলিফোন নাইরে পিয়ন নাইরে টেলিগ্রাম বন্ধুর কাছে মনের খবর কেমনে পৌছাইতাম! আপনি ভাল থাকুন ওপারে।








