জাতীয় শহীদ মিনারে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শোকসভা ও শ্রদ্ধা নিবেদন

0
143

প্রধান প্রতিবেদকঃ “রক্তে লেখা ইতিহাস কখনো মুছে যায় না”—এই বার্তা ধারণ করে আজ বুধবার সকালে জাতীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক শোকাবহ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘জুলাই শহীদ’ স্মরণে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আয়োজিত শোকসভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান। শহীদ আবু সাইদ, শহীদ বদিউজ্জামান এবং শহীদ আব্দুল লতিফ—এই তিন মহান সংগ্রামী নেতার আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় জমায় দলীয় নেতাকর্মী, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ নাগরিকেরা।

শহীদ মিনার জুড়ে তখন শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত, “শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না”, “আবু সাইদ-লতিফ-বদিউজ্জামান—তোমার লড়াই, চলবে অবিরাম”। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শুরু হয়, আর তার পরই একে একে বক্তব্য রাখতে ওঠেন নেতৃবৃন্দ।

সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগর সভাপতি খন্দকার মোস্তাক আহমেদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের সাধারণ সম্পাদক ও জননেতা সাইফুল হক বলেন, “এই শহীদরা ছিলেন শ্রমিক শ্রেণির মুক্তির সংগ্রামের অগ্রসেনানী। তাঁরা সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের রক্তেই পথ গড়ে উঠেছিল মুক্তির—একটি শোষণমুক্ত, সাম্যভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমরা যদি এই শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে লড়াই না করি, তাহলে তাদের আত্মত্যাগ অপূর্ণ থেকে যাবে। তাই আমাদের শপথ নিতে হবে—এই সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী, আরও সংগঠিত করতে হবে।”

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আকবর খান, অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতির সভাপতি জামাল সিকদার, যুব ও শ্রমজীবী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের ভাষণে উঠে আসে শহীদদের সংগ্রামী জীবনের নানা অধ্যায়, ষড়যন্ত্রকারীদের নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং রাষ্ট্রের দায়।

জামাল সিকদার বলেন, “শ্রমিক আন্দোলন আজও বৈষম্য, বঞ্চনা ও দমন-পীড়নের মুখোমুখি। কিন্তু শহীদদের আদর্শ আমাদের আজও প্রেরণা দেয় প্রতিটি লড়াইয়ে।”

শোকসভায় শহীদদের স্মৃতিচারণে জাতীয় শহীদ মিনার যেন একদিনের জন্য হয়ে উঠেছিল লড়াইয়ের প্রতীক, সংগ্রামের স্মৃতিচারণ ও নতুন শপথ গ্রহণের পবিত্র মঞ্চ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে এক মিনিট সব নেতাকর্মী একযোগে শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করেন ও শপথ গ্রহণ করেন “শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা লড়াই করব শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here