নড়াইলে সেনা সদস্যের কাছ থেকে টাকা ছিনতাই: চিহ্নিত চাঁদাবাজ জাকির আবারও আলোচনায়
নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জহিরুল ইসলামের বিশেষ প্রতিবেদন: নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলায় আবারও চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া থানার রাজপুর গ্রামের কুখ্যাত চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও একাধিক মামলার আসামি এম জাকির সেনাবাহিনীতে কর্মরত এক সদস্যের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী হলেন মোঃ মিরাজুল ইসলাম পিতা: জনাব নবীর হোসেন শেখ, গ্রাম ও ডাকঘর: পাংখার চর, থানাঃ লোহাগড়া, জেলা: নড়াইল।
তিনি বর্তমানে সেনাবাহিনীতে বি’এম, টি,এফ সেনা কর্মকর্তা পদে যশোর সেনানিবাসে কর্মরত আছেন। গতকাল রাত আনুমানিক ৮টা ২ মিনিটের দিকে এম জাকির ও তার সহযোগীরা তার পথরোধ করে জোরপূর্বক ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত এম জাকির, পিতা চান মিয়া, গ্রাম রাজোপুর, থানাঃ লোহাগড়া, জেলা নড়াইল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় দালালি, চাঁদাবাজি, চিটারি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক নাম ভাঙিয়ে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জাকির দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে।
স্থানীয়দের মতে, জাকির দীর্ঘদিন ধরেই দালালি ও চাঁদাবাজিকে প্রধান পেশা হিসেবে নিয়েছে। অল্প বয়স থেকেই সে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তার বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিকবার মামলা হলেও অজ্ঞাত কারণে সে বারবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে গেছে। এ কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, জাকির একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় রয়েছে।
এ ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে একজন সেনা সদস্যের কাছ থেকে এভাবে প্রকাশ্যে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা নড়াইল জেলায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসী বলছে, যদি একজন সেনা সদস্য নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা সহজেই অনুমানকরা যায়।
ভুক্তভোগী পরিবার এবং সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, বারবার মামলা ও অভিযোগ থাকার পরও এম জাকিরের দাপট কমছে না, বরং দিন দিন বেড়েই চলছে। তাই এবার প্রশাসনের উচিত দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পায় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
নড়াইলের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি শুধু একটি ছিনতাই নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ফাঁক-ফোঁকরে লুকিয়ে থাকা একটি অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্যের প্রমাণ। স্থানীয়রা মনে করেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এ ধরনের অপরাধ আরো বেড়ে যাবে। এখন দেখার বিষয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়।








