আবু সাঈদ হত্যার বিচার শুরু, আদালতে পিতার অশ্রু

0
299

নিজস্ব সংবাদদাতা: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। বুধবার মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনালে আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার দুটি ভিডিও আদালতে প্রদর্শিত হয়। আদালতের মনিটরে নিজের ছেলেকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখে অশ্রুসিক্ত হন নিহত শিক্ষার্থীর পিতা মকবুল হোসেন।

প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল আগামীকাল ২৮ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আদেশ দিয়েছে। এর আগে, গত ৩০ জুলাই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হয় এবং ৬ আগস্ট আদালত তা গৃহীত করে।

এ মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার ৬ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন:

শরিফুল ইসলাম (সাবেক প্রক্টর)

রাফিউল হাসান রাসেল (সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার)

মো. আনোয়ার পারভেজ (সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী)

আমির হোসেন (সাবেক এএসআই, বাংলাদেশ পুলিশ)

সুজন চন্দ্র রায় (সাবেক কনস্টেবল)

ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ (নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা)

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আবু সাঈদ।

আন্দোলনের একজন মূল সংগঠক হিসেবে তিনি সক্রিয় ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

জনগণের প্রবল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেন। ঘটনার পর মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা ও নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা পড়ে। বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব মামলার বিচার চলছে।