গোলাম রাজীব: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো একটি শক্তিশালী মহল সক্রিয় রয়েছে যারা চায় না যে গণতান্ত্রিক শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসুক।
তিনি বলেন, এই গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ভাসানী অনুসারী পরিষদ।
বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে সহযোগিতা করেছি, কোনও রকমের জটিলতা তৈরি করিনি। কিন্তু এখন কিছু মহল উদ্ভট ও জনবিচ্ছিন্ন দাবি তুলে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে।”
তিনি আরও বলেন, “সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা (পিআর) সাধারণ ভোটারের কাছে বোধগম্য নয়। এতে বিভ্রান্তি ছড়ায়, কারণ জনগণের দেওয়া ভোটের সরাসরি প্রতিফলন সংসদে পাওয়া যায় না।”
মির্জা ফখরুল জানান, নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার সুযোগ নিয়ে অগণতান্ত্রিক শক্তি লাভবান হচ্ছে। “পাঁচ আগস্টের পর আমরা বলেছিলাম তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দরকার। তাহলে নতুন সরকার সংস্কার শুরু করতে পারত। কিন্তু তা না হওয়ায় রাজনৈতিক শূন্যতায় ভিন্ন শক্তি এগিয়ে যাচ্ছে।”
দেশজুড়ে দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রতিটি খাতে দুর্নীতি এখন মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আগে যেখানে ছোট অংকের ঘুষে কাজ হতো, এখন তা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এমনকি রাজনৈতিক নেতারাও এই ব্যবস্থার অংশ হয়ে গেছেন, যা জাতির জন্য অশনি সংকেত।”
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, “কেউ কেউ ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে চাচ্ছে। কিন্তু আমরা নিজের চোখে দেখেছি কীভাবে ভাইদের হত্যা করা হয়েছে। যারা তখন পাকিস্তানের দোসর ছিল, তারাই এখন জাতিকে শিক্ষা দিচ্ছে।”
শেষে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে হলে সবাইকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। “সব ঠিক হয়ে গেছে” এমন আত্মতুষ্টি বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।








