দাউদকান্দিতে ৩০ বছরের রাস্তা দখল: সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে বিপর্যস্ত জনজীবন

0
650

স্থানীয়দের অভিযোগ: প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ভোগান্তিতে নারী ও শিক্ষার্থীরা

সাইফুল ইসলাম খাজা দাউদকান্দি (কুমিল্লা):
কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার গৌরীপুর পশ্চিম বাজারের শান্তি নিবাস রোড দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে মানুষের চলাচলের প্রধান রাস্তাগুলোর একটি। প্রায় তিন থেকে চার হাজার মানুষের বসবাস এ রাস্তাকে ঘিরে। রয়েছে বহুতল ভবন, বসতবাড়ি এবং একটি মহিলা মাদ্রাসা। কিন্তু সম্প্রতি প্রভাবশালী একদল সন্ত্রাসী চক্র জোরপূর্বক রাস্তার মুখে দোকান নির্মাণ শুরু করে। ফলে স্থানীয়রা চলাচলের রাস্তা হারিয়ে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছে।

নারী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

এই অবৈধ দখলের কারণে মহিলা মাদ্রাসার শতাধিক ছাত্রী এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মাদ্রাসায় যেতে পারছে না। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও সমস্যায় পড়েছে। বিশেষ করে নারী ও বয়স্করা সন্ত্রাসীদের ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছে না। স্থানীয়রা বলছেন, শিশুদের শিক্ষা ও মহিলাদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন?

এলাকাবাসী জানায়, দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত দরখাস্ত দেওয়া হলেও এখনও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের অভিযোগ—প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই সন্ত্রাসীরা দাপট দেখাচ্ছে।

তদন্তে পাওয়া সন্ত্রাসীদের তালিকা

অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন:

  • শাহীন ভূঁইয়া (পিতা: মৃত হানিফ ভূঁইয়া, গ্রাম: সোলাকান্দি, থানা: তিতাস)
  • জাকির মেম্বার (পিতা: মৃত আব্দুল সামাদ, গ্রাম: সোলাকান্দি, থানা: তিতাস)
  • নজরুল ইসলাম (পিতা: মৃত খালেক সরকার, গ্রাম: সোলাকান্দি, থানা: তিতাস)
  • সেলিম মোল্লা (পিতা: মৃত দাগন আলী হক মোল্লা, গ্রাম: সোলাকান্দি, থানা: তিতাস)
    এছাড়া আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

আইনি বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো সরকারি বা জনসাধারণের রাস্তা দখল করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধির আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা না হলে এটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে এবং ভবিষ্যতে আরও অবৈধ দখলের ঘটনা ঘটবে।

এই অবৈধ দখলের কারণে শুধু পথচারীরাই সমস্যায় পড়ছেন না, বরং শিক্ষা কার্যক্রম, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, নারীর চলাচল ও সামাজিক নিরাপত্তা পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এটি সামাজিক অস্থিরতা ও সংঘাত বাড়িয়ে দিতে পারে।

জনমতের দাবি

গৌরীপুর পশ্চিম বাজারের বাসিন্দারা বলছেন, রাস্তাটি দ্রুত দখলমুক্ত করে অবৈধ দোকান ভেঙে ফেলা প্রয়োজন। তারা দাবি করেন—

১. সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইন অনুযায়ী বিচার করতে হবে।

২. রাস্তাটি অবিলম্বে উন্মুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

৩. প্রশাসনকে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিয়ে জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

দাউদকান্দির এই ঘটনাটি কেবল একটি রাস্তা দখলের ঘটনা নয়, বরং আইনের শাসন ও প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন কি না।