গৌরীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চলছে ঘুষের রাজত্ব

0
434
ছবি- সিএনএস।

ঘুষ ছাড়া সাবরেজিস্ট্রার রেহানা চৌধুরীর অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি অসম্ভব! অভিযোগ দাউদকান্দির ভুক্তভোগীদের।

সাইফুল ইসলাম খাজা কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি: দাউদকান্দি থানার গৌরীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চলছে ঘুষের রাজত্ব। অভিযোগ উঠেছে, অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার রেহানা চৌধুরী ঘুষ ছাড়া কোন দলিল রেজিস্ট্রি করছেন না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে দলিল রেজিস্ট্রি সম্ভব নয়।

স্থানীয় দলিল লেখক (ভেন্ডার) ও ভুক্তভোগীরা জানান, রেহানা চৌধুরী প্রতি দলিলের পেছনে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করেন। সিএস, আরএস ও বিএস খতিয়ানে সামান্য অমিল থাকলেও, টাকা ছাড়া কাজ এগোয় না। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বৈধ সব কাগজপত্র সত্ত্বেও রেজিস্ট্রেশন আটকে রাখা হয় ঘুষ না পেলে।

গেট বন্ধ করে ঘুষ বাণিজ্য!

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়মিত চিত্র হলো, অফিসের মূল ফটক বন্ধ রাখা হয়। বাইরে দলিল নিয়ে অপেক্ষমান লোকজন দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকেন, আর ভেতরে একজন একজন করে ডেকে নিয়ে ঘুষ নিয়ে কাজ করা হয় বলে অভিযোগ। আজ দুপুর ১২টার সময় সিএনএস কুমিল্লা প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম খাজা সরাসরি রেহানা চৌধুরীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে, তিনি বলেন: “এটা আমার একান্ত বিষয়, কাকে ডাকবো না ডাকবো – সেটা আপনাকে জিজ্ঞেস করতে হবে না।”

এ সময় অফিসের এক কর্মচারী মন্তব্য করেন, “আপনি পুরাতন সাংবাদিক – রাইটারদের সঙ্গে দেখা করে খরচপাতি দিন। বিরক্ত করবেন না। আর করলেও কিছু করতে পারবেন না।”

আতঙ্কে কর্মচারীরাও

গৌরীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরাও রেহানা চৌধুরীর আচরণ ও ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন। তারা বলেন, “উনি এমনভাবে অফিস চালান যেন রাজধানী থেকে স্পেশাল নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সবকিছু নিজের মত করে চালান।”

ভূক্তভোগীদের দাবি: ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, দলিল করতে আসা সাধারণ মানুষ, দলিল লেখক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ ও তদন্ত দাবি করেছেন। তারা বলেন, “আমরা আইন মেনে, কর-খাজনা দিয়ে দলিল করতে এসেছি। ঘুষ দিয়ে নিজের ন্যায্য কাজ আদায় করতে হবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

দাবি:

🔹 রেহানা চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত

🔹 ঘুষ বাণিজ্যের প্রমাণ সংগ্রহ

🔹 দোষী সাব্যস্ত হলে চাকরিচ্যুতি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

🔹 গৌরীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা

📢 এটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মানহানি উদ্দেশ্যে লেখা হয়নি। এটি ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি একটি প্রতিবেদন। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হোক এই প্রত্যাশা সকলের।