গুমের শিকার ৭ পরিবারের স্বাবলম্বিতার পথে বিএনপি

0
363

বংশালে অনলাইন শপ ও শোরুম ‘ফ্যাশন পার্ক’ উদ্বোধন

গোলাম রাজীব: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ৭ পরিবারের জন্য নতুন স্বাবলম্বিতার উদ্যোগ হিসেবে উদ্বোধন করা হলো ‘ফ্যাশন পার্ক’ নামের একটি অনলাইন শপ ও শোরুম।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর বংশাল নতুন চৌরাস্তা, নর্থ সাউথ রোডে অবস্থিত এই শোরুমের উদ্বোধন করেন গুমের শিকার সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার

‘বিচার হবেই, ইনশাল্লাহ’

অনুষ্ঠানে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন,
“গুম পরিবারের বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। একদিন বিচার হবেই, ইনশাল্লাহ।”

ইসহাক সরকার বলেন,
“গুম পরিবারের জন্য স্বাবলম্বিতার সুযোগ তৈরি করতে বিএনপি এই উদ্যোগ নিয়েছে। সবাইকে অনুরোধ করবো, এখানে কেনাকাটা করে পরিবারগুলোকে সহায়তা করুন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”

গুম হওয়া পরিবারের হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা

অনুষ্ঠানে গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা তাদের বেদনার কথা জানান।

  • পারভেজ হোসেন (বংশাল): ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে গুম হন। স্ত্রী ফারজানা আক্তার বলেন, “সন্তানদের নিয়ে একা জীবন চালানো কঠিন। আমরা বিচার চাই।”

  • সেলিম রেজা পিন্টু (সূত্রাপুর): ২০১৩ সালের ১১ ডিসেম্বর গুম হন। বড় ভাই ইসলাম রেজা বলেন, “মায়ের চোখে আজও পানি শুকায়নি। সত্য প্রকাশ চাই।”

  • মাহফুজুর রহমান সোহেল (বংশাল): তার মেয়ে শাফা কাঁদতে কাঁদতে বলে, “আমি শুধু বাবাকে ফিরে পেতে চাই।”

  • চঞ্চল কাজী (বংশাল): স্ত্রী রেশমা আক্তার বলেন, “স্বামীর অজানা পরিণতির কথা ভেবে প্রতিদিন ভয়ে কাটাই। বিচার চাই।”

  • হাবিবুল বাসার জহির (বংশাল): পরিবারের ভাষ্য, “একসাথে চারজনকে তুলে নেওয়া হয়, আজও কোনো খবর নেই।”

  • সম্রাট মোল্লা (সূত্রাপুর): পরিবার জানায়, “একদিন বের হয়েছিলেন, আর ফেরেননি।”

  • খালেদ হাসান সোহেল (সূত্রাপুর): পরিবারের দাবি, “ঘরে শুধু কান্না, কোনো উত্তর নেই। আমরা সত্য জানতে চাই।”

নেতাকর্মীদের উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বংশাল থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. রাশেদ, আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান দিপু, এম এ মান্নান হীরা, শামসুর রহমান রকিব, দ্বীন ইসলাম, রায়হান সেন্টু, যুবদল নেতা মো. পারভেজসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মূল লক্ষ্য

এই উদ্যোগের মাধ্যমে বংশাল ও সূত্রাপুর থানার গুমের শিকার পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং তাদের ন্যায্য বিচারের দাবিকে সামনে আনা।