তোয়ালে ভেতর ৬ কেজির বেশি কেটামিন, টঙ্গী থেকে আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

0
334
ছবি- সংগৃহীত

নিজস্ব সংবাদদাতা: গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত একটি আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ কেটামিন মাদক জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। তোয়ালের মধ্যে লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায় ৬ দশমিক ৪৪ কেজি পরিমাণ ভয়ংকর এই মাদক। ইতালিতে পাঠানোর প্রস্তুতিকালে চালানটি জব্দ করা হয়।

মো. মাসুদুর রহমান জিলানী (২৮) এবং মো. আরিফুর রহমান খোকা (৪৩)। ছবি- সংগৃহীত

এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন, চাঁদপুর জেলার মো. মাসুদুর রহমান জিলানী (২৮) এবং ফরিদপুরের মো. আরিফুর রহমান খোকা (৪৩)।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসি’র মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি’র গোয়েন্দা শাখা ফেডেক্স কুরিয়ার সার্ভিসে অভিযান চালায়। পার্সেলটির ওজন ও অবস্থা সন্দেহজনক মনে হলে সেটি খুলে দেখা হয়। খাকি রঙের একটি কার্টনের মধ্যে সাতটি সাদা তোয়ালে পাওয়া যায়। রাসায়নিক পরীক্ষা করে তোয়ালেতে দ্রবীভূত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ কেটামিন শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে উঠে আসে, মাসুদুর রহমান পার্সেলটির প্রেরক এবং ঘটনার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুরের সালথা থানার আটঘর বাজার থেকে আরিফুর রহমান খোকাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক পাচারে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।

কেটামিন: পার্টি ড্রাগ থেকে ভয়াবহ আসক্তি

কেটামিন মূলত একটি অ্যানেস্থেটিক ওষুধ হলেও, বর্তমানে এটি বিশ্বব্যাপী পার্টি ড্রাগ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অল্প সময়েই এটি মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি, অবাস্তব অনুভূতি, হ্যালুসিনেশন তৈরি করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি কিডনি, মূত্রথলি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে।

ডিএনসি’র মহাপরিচালক জানান, “এই ধরনের ভয়ংকর মাদক যাতে দেশের ভেতর বা বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য কুরিয়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে এবং চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।