নিজস্ব সংবাদদাতা: ধর্ষণ ও প্রতারণা মামলায় কারারক্ষী হাবিব খান এখন কারাগারে।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, বাদী ফাতেমা নাসরিনের সঙ্গে সাথে বিগত ০১/০৩/২০২৪ ইং তারিখ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাবিব খানের সঙ্গে পরিচিত হন

হাবিব খান একজন সরকারী চাকুরীজীবি এবং জেল পুলিশের কারারক্ষী পদে চাকরি করেন। তাদের পরিচয়ের সূত্র ধরে মোবাইল ফোন এর মাধ্যমে৷ নিয়মিত কথাবার্তার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে উঠে।
ফাতেমা নাসরিনের পিতা-মাতা জীবিত না থাকায় নিজের বিবাহের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হয়েছে। কারারক্ষী হাবিব খানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারনে হাবিব খান নিজেই বিবাহের প্রস্তাব দিলে ফাতেমা নাসরিন সম্মতি প্রকাশ করেন।
বিগত ২৪/০৯/২০২৪ ইং তারিখ, মঙ্গলবার সকাল ৭:০০ টায় খিলগাও থানাধীন সিপাহীবাগ এলাকার একটি অপরিচিত বাসায় ফাতেমা নাসরিনকে হাবিব খান নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের কথা বলে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বললে সরল বিশ্বাসে উক্ত কাগজে স্বাক্ষর করেন ফাতেমা নাসরিন।
এই স্বাক্ষর প্রদানের মাধ্যমে তাহাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান হাবিব খান। ঐদিনই তার বর্তমান ঠিকানা ৩৯/১১ পূর্ব হাজীপাড়া ৬ষ্ঠ তলা বাড়ীর ৬ষ্ঠ তলার একটি রুমে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে কারারক্ষী হাবিব খানের কথাবার্তা, চালচলনে একাধিক নারীতে আসক্ত থাকা ইত্যাদি কারনে ফাতেমা নাসরিনের সন্দেহ হয় এবং তাদের বিবাহের কাবিননামা ফাতেমা নাসরিন দাবী করলে এক পর্যায়ে হাবিব খান জানায়, তাহাদের মধ্যে কোন ধরনের বিবাহ সম্পাদিত হয় নাই।
পরবর্তীতে ০৬/১০/২০২৪ ইং তারিখ হাবিব খান পূণরায় ফাতেমা নাসরিনের বাসায় এসে স্বামী স্ত্রী হিসেবে রাত্রি যাপন করেন।
তাদের ভিতর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাবিব খান ফাতেমা নাসরিনকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করেন। নাসরিন মুগদা মেডিকেল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহন করে যাহার রেজিঃ নং: ৮৬১৩৭/২৮৮, তাং-০৬/১০/২০২ ইং।
বিগত ০১/০৩/২০২৪ ইং তারিখ হইতে ০৬/১০/২০২৪ ইং তারিখ পর্যন্ত অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বিবাহ না করে প্রতারনামূলক ভাবে ধর্ষন করেছে। ফাতেমা নাসরিন কারারক্ষী হাবিব খানকে স্বামী হিসাবে জানলেও প্রকৃতপক্ষে হাবিব খান স্বামী ছিল না।
প্রকৃতপক্ষে, আসামী একজন ঠক, প্রতারক, বিশ্বাস ভঙ্গকারী, নারী ধর্ষনকারী। দীর্ঘদিন পর্যন্ত ফাতেমা নাসরিনের ধারনা ছিলো তার স্বামী হাবিব খান কাবিননামা প্রদান করবেন। হাবিব খান বিয়ে অস্বীকার করলে আকস্মিকতায় ফাতেমা নাসরিন মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে।
ফাতেমা নাসরিন নিরুপায় হয়ে হাবিব খানের সঙ্গে আপোষের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে পরবর্তীতে সকল বিষয় জ্ঞাত করে ঘটনাস্থল এর এখতিয়ারভুক্ত সংশ্লিষ্ট রামপুরা থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তার অভিযোগ আমলে না নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে ফাতেমা নাসরিন বাদী হয়ে নারী শিশু নির্যাতন অপরাধ আইন এর ৯(১) ধারা যার নং ২৬২/২০২৪ ও সিএমএম আদালতে ৪৯৩/৫০৬ ধারা যার নং ৬৭/২০২৪ কারারক্ষী হাবিব খানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বর্তমানে কারারক্ষী হাবিবুর রহমান খান গ্রেফতার হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।








