Homeবিবিধটপ ফাইভটম ক্রুজের ‘ডিগার’ ব্যর্থতা নিয়ে উল্লাস, ক্ষুব্ধ বেন অ্যাফ্লেক

টম ক্রুজের ‘ডিগার’ ব্যর্থতা নিয়ে উল্লাস, ক্ষুব্ধ বেন অ্যাফ্লেক

বিনোদন ডেস্ক:

বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে টম ক্রুজ অভিনীত বড় বাজেটের সিনেমা ‘ডিগার’। ছবিটির বাণিজ্যিক ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা ও বিদ্রূপের মধ্যে এবার প্রশ্ন তুলেছেন হলিউড অভিনেতা ও নির্মাতা বেন অ্যাফ্লেক। তাঁর মতে, কোনো সিনেমার আয় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলেই সেটিকে ঘিরে উল্লাসে মেতে ওঠা চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য ইতিবাচক নয়। বরং শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যকে গুরুত্ব দিলে সৃজনশীল গল্প বলার সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসতে পারে।

সম্প্রতি এক পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে ‘ডিগার’ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান অ্যাফ্লেক। তাঁর উদ্বেগ, সিনেমার সাফল্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বক্স অফিসের হিসাবই প্রধান হয়ে উঠলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন ধরনের গল্প ও ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলীর প্রতি আগ্রহ হারাতে পারে। এতে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করতে চাওয়া নির্মাতারা নিরুৎসাহিত হবেন।

অ্যাফ্লেকের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, বড় বাজেটের প্রতিটি সিনেমা বাণিজ্যিক সাফল্য পাবে, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। কোনো প্রকল্প আর্থিকভাবে ব্যর্থ হতে পারে, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার কারণে নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত নয়। তাঁর আশঙ্কা, লোকসানের ঝুঁকি এড়াতে গিয়ে হলিউডের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই পরিচিত ও পরীক্ষিত গল্পের দিকে ঝুঁকবে। ফলে চলচ্চিত্রে বৈচিত্র্য ও সৃজনশীল পরীক্ষার সুযোগ কমে যেতে পারে।

আলেহান্দ্রো গনসালেস ইনারিতু পরিচালিত ‘ডিগার’-এ ডিগার রকওয়েল নামের এক অদ্ভুত স্বভাবের তেল ব্যবসায়ীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন টম ক্রুজ। চরিত্রটির প্রয়োজনে তাঁকে দেখা গেছে বয়স্ক ও সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অবতারে। সিনেমার গল্পে এক তেল ব্যবসায়ীর কর্মকাণ্ডের জেরে বিশ্বজুড়ে পরিবেশগত সংকট তৈরি হয়। এর মধ্য দিয়ে করপোরেট লোভ, পরিবেশের ওপর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের প্রভাব এবং গল্প বলার নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন রিজ আহমেদ, জন গুডম্যান, সান্দ্রা হুলার, মাইকেল স্টালবার্গ ও জেসি প্লেমন্স।

তবে তারকাবহুল আয়োজন ও বড় বাজেট সত্ত্বেও বক্স অফিসে আশানুরূপ সাড়া পায়নি সিনেমাটি। এএফপির বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম দুই সপ্তাহে উত্তর আমেরিকায় ছবিটির আয় ছিল প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ডলার। বিশ্বব্যাপী আয় দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলারে।

‘ভ্যারাইটি’-র হিসাব অনুযায়ী, সিনেমাটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ১৬ থেকে ১৮ কোটি ডলার। এর বাইরে প্রচার ও বিপণনে খরচ হয়েছে আরও প্রায় ১০ কোটি ডলার। ফলে ছবিটির আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে অ্যাফ্লেকের বক্তব্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কেবল একটি সিনেমার লোকসান নয়; বরং সেই ব্যর্থতার প্রতি শিল্প ও দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁর অবস্থান অনুযায়ী, কোনো চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক ফলাফল নিয়ে আলোচনা হতেই পারে, কিন্তু সেই ফলকে সৃজনশীল প্রচেষ্টার একমাত্র মাপকাঠি বানানো হলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে পুরো শিল্প।

‘ডিগার’-এর বক্স অফিস ফল তাই হলিউডের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে, সিনেমার মূল্য কি শুধু আয়ের অঙ্কে নির্ধারিত হবে, নাকি নতুন গল্প বলার সাহস ও সৃজনশীল পরীক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে?

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments