নিজস্ব প্রতিনিধি:
কবি, অনুবাদক ও সাংবাদিক রথো রাফি মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫১ বছর।
রথো রাফির ছোট ভাই মো. এহতেশামুল হক তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত সোমবার থেকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন এই নিভৃতচারী কবি।
সাহিত্য ও অনুবাদে নিজস্ব ভাষাভঙ্গির জন্য পরিচিত ছিলেন রথো রাফি। তাঁর একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘অক্ষর ও বালির পৃথিবী’। ৪৩২ পৃষ্ঠার বইটিতে স্থান পেয়েছে দুই শতাধিক কবিতা। ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দুই দশকে লেখা কবিতাগুলো নিয়ে সংকলনটি প্রকাশিত হয়। তাঁর কবিতায় মানুষের জন্ম-মৃত্যুর দর্শনের পাশাপাশি কৃষ্ণের বাঁশি ও যিশুর ক্রুশযাত্রার মতো নানা বিষয় উঠে এসেছে।
বিশ্বসাহিত্যের বিভিন্ন ভাষার কবিতাও বাংলায় অনুবাদ করেছেন তিনি। এরিখ ফ্রাইড, চার্লস বুকোস্কি, মুহাম্মদ আল-মাঘুত ও ইয়ারোস্লাভ সাইফার্টের মতো খ্যাতিমান কবিদের রচনা অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা ভাষার পাঠকদের কাছে বিশ্বকবিতার নানা ধারা তুলে ধরেছেন রথো রাফি।
১৯৭৫ সালের ৩১ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ তারুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর প্রকৃত নাম মো. মোজাম্মেল হক। বাবা আবুল কাশেম আশুগঞ্জ হাজি আব্দুল জলিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক ছিলেন। মা জাহানারা বেগম সরকারি চাকরি করতেন। তাঁর মা-বাবা আগেই মারা গেছেন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন।
রসায়নশাস্ত্রে পড়াশোনা করলেও কবিতা ও অনুবাদের জগতেই নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলেন রথো রাফি। নব্বইয়ের দশকে কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর দীর্ঘদিন ছোটকাগজ আন্দোলন ও প্রতিষ্ঠানবিরোধী সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানবিরোধী ছোটকাগজ গাণ্ডীব-এ নিয়মিত লিখতেন তিনি।
সাংবাদিকতা পেশায়ও যুক্ত ছিলেন রথো রাফি। দীর্ঘদিন দৈনিক সমকালে সহসম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া ভোরের কাগজের অনলাইন বিভাগে শিফট ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করেন।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে দক্ষিণ তারুয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার পাশে তাঁকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর ভাই এহতেশামুল হক।



