প্রিয়তম, আজও মনে পড়ে
রোজ – রোজ বেদনার বাসরে
বসে বসে ভাবি শহরটা ছেড়ে
জোসনা মাখা দীঘির পাড়ে
যদি তোমাকে পাই!
বিদায়ের বাঁশরি বাজিয়ে
যাব ব’লে দেনা পাওনা চুকিয়ে
সময়-অসময়ের গান শুনিয়ে
ঢাকের তালে পা মিলিয়ে
চল ফিরে যাই।
সেই যে, কৃষাণ কৃষাণীর বাঁকে
কদমে কদম রেখে রেখে
নির্ভয়া দুচোখ স্বপ্ন আঁকে
সবুজ মাঠে ঘাসের বুকে
জীবনের গান গাই।
প্রিয়তম, আজও ইচ্ছে করে
ইট বালুর নিষ্প্রাণ শহরটা ছেড়ে
আকাশ ছুঁয়ে উঠোন জুড়ে
হাজার তারার মিছিল ঘিরে
চাঁদের দেশে ধাই।
ভোরের বেলায় শিউলী তলা
একলা ভরি ফুলের ডালা
ফুলে ফুলে গাঁথা মালা
ছিঁড়েছে যখন সাঁঝের বেলা
আঁখির কোলে ভাসাই।
এসো, আবার মেঘের জলে
মন ধুয়ে আজ ধরা তলে
অবসাদ আর ক্লান্তি ভুলে
চাওয়া পাওয়ার কানন কুন্তলে
প্রিয় তোমাকে চাই।
প্রিয়তম,স্মৃতির স্মরণ সখা
কংক্রিটের শহরে একা একা
আকুল প্রাণের গল্প লেখা
হারিয়ে খোঁজা সুখ রেখা
কোথাও কেউ নাই!
এই শহরেও বরষা নামে
রোদে পুড়ে শরীর ঘামে
মেঘলা আকাশ কোথায় থামে
মেঘের দেশে বৃষ্টি জমে
শিলার জলে হারাই।
আয়রে তোরা সখা-সখী
দুঃখ রাশি মুখোমুখি
ব্যথার ভারে ওরে নইযে দুঃখী
ফেরার আসার আশায় সুখী
নিশি জেগে রই।
খেলার খেলায় খুনসুটি
এদিক ওদিক ছুটোছুটি
ভোঁদৌড়ে গড়াগড়ি লুটোপুটি
খেলাচ্ছলে সময় নিল ছুটি
অভিমানী গেল কই।
প্রিয়তম,শেষান্তে সুহৃদ মোর,
ছিন্ন পত্রখানি ভুল ত্রুটির
দৃষ্টি নন্দন চিত্তে কামনার
মূল্য লভিতে ক্ষণেক কালের
যোগে মিনতি জানাই।