রাষ্ট্র পক্ষের বর্ণনায় অভিযুক্ত আমু-কামরুল

176
ছবি-সংগৃহীত
Print Download PDF

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ১৪ দলের সমন্বয়ক, সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এবং আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বর্ণনা দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আজ বুধবার (৪ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা পরোয়ানামূলে তাদের হাজির করা হয়।
শুনানিতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন অপর দুই বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মহিতুল হক এনাম চৌধুরী এজলাসে স্ব স্ব আসনে উপবিষ্ট ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রমের শুরুতে তাদের পক্ষে আইনজীবীরা ওকালতনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার অনুমতি চাইলে আবেদন মঞ্জুর করা হয়। আসামিরা ওকালতনামায় স্বাক্ষরের পর শুরু হয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলায় আনা অভিযোগের উপর রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য।

পাবলিক প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম আমুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, আমির হোসেন আমু ১৪ দলের সমন্বয়ক। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। জুলাই-আগস্টে গণহত্যার সময় তার ভূমিকা ছিল মাস্টার মাইন্ডের মতো। সে সময় আন্দোলন দমাতে গণভবনে মিটিংয়ে বসেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীসহ ১৪ দলের নেতারা। সেখানে তারা সিদ্ধান্ত নেন আন্দোলনকারীদের দমাতে কারফিউ দেওয়ার এবং দেখামাত্র গুলি করার। আন্দোলনকারীদের দমাতে হত্যা, বুলেট, রাবার বুলেট ছোড়ার নির্দেশ দেন তিনি।

আমুর নির্দেশের পর দুই শতাধিক ছাত্র-জনতা নিহত হয়। আহত হয় ৩০ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা।
এরপর কামরুল ইসলামের বিষয়ে আদালতে অভিযোগ তুলে ধরেন প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। তিনি বলেন, তদন্ত সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী কামরুল ইসলামের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ছাত্রলীগসহ তাদের গুন্ডাবাহিনী নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়। হামলায় অনেক ছাত্র-জনতা নিহত ও আহত হন।

শুনানি শেষে আসামিদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৮ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। গত সোমবার (২ ডিসেম্বর) তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর পাশাপাশি বসেছিলেন সাবেক এই দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী। আমির হোসেন আমু ডানে আর অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বামের চেয়ারে বসেছিলেন। শুনানির সময় মাঝেমধ্যে দুজন ফিসফিস করে কী যেন আলোচনা করছিলেন। ট্রাইব্যুনালে আসা থেকে প্রিজন ভ্যানে উঠা অবধি তাদের স্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা গেছে।