https://cns24news.com/

কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়, ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নে জোর প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ: 05 Oct 2026   |   প্রতিবেদক: editor
কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়, ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নে জোর প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি:

রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিকল্পিত ও ভারসাম্যপূর্ণ নগরায়ণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু মানুষের জন্য একটি ঘর তৈরি করা নয়; নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, পয়ঃনিষ্কাশন, সড়ক ও গণপরিবহন, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবাসহ মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা।

সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যার ঘনত্ব ও দ্রুত নগরায়ণের কারণে ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। দেশের অন্যান্য বড় শহরেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ বাস্তবতায় শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখলে নগরজীবনের সংকট আরও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, শহরাঞ্চলের জনসংখ্যার চাপ কমাতে রাজধানী ও অন্যান্য শহরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়াতে হবে। এতে কর্মসংস্থান ও প্রয়োজনীয় সেবার জন্য মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরকে ঘিরে উন্নয়ন কেন্দ্রীভূত না রেখে বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

এ লক্ষ্যে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের তাৎপর্য শুধু একটি ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। টেকসই আবাসনের সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, গণপরিবহন, সড়কব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থান সরাসরি যুক্ত।

তাঁর মতে, নাগরিকদের জন্য বাসস্থান তৈরি করলেও সেটি যদি নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত না হয়, তাহলে তা পূর্ণাঙ্গ আবাসন হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তাই নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিও সরকারের দায়িত্বের অংশ।

তিনি বলেন, জনবহুল বাংলাদেশের বাস্তবতায় সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা সহজ নয়। তারপরও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও সীমিত আয়ের মানুষের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিকেও আবাসন পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করা, এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ রাখা এবং নির্ধারিত এলাকায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নগরাঞ্চলের আবাসন সংকট সরকারের একার পক্ষে সমাধান করা কঠিন। এ জন্য আবাসন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সর্বজনীন আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারের গৃহীত পরিকল্পনাগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ আর শুধু একটি লক্ষ্য থাকবে না; এটি দেশের মানুষের জন্য বাস্তবতায় পরিণত হবে।

বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।