https://cns24news.com/

শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ: 06 Oct 2026   |   প্রতিবেদক: editor
শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি:

শিশুদের নিজেদের প্রতিভা ও যোগ্যতা বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারলে দেশের ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ যেমন সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি দেশের ভবিষ্যৎও নির্ভর করে শিশুদের যথাযথ বিকাশের ওপর।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। তাদের খেলাধুলা, শিল্প, সংস্কৃতি ও সংগীতচর্চার সুযোগ দিতে হবে। প্রতিটি শিশুর মধ্যেই কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে এবং সেই প্রতিভা বিকাশের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ।

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর সময় তিনিও শিশু হিসেবে সেখানে এসেছিলেন। শিশু একাডেমির ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে তাঁর ও তাঁর ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশিত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি বোর্ডে নিজের গল্প ও ভাইয়ের লেখা দেখে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে যায় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের কাছে পড়ালেখার কথা বলব না। তোমাদের আজকে আমি বলব, তোমাদের খেলাধুলা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো শিশু ছবি আঁকতে পছন্দ করে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করতে পারে, কেউ গান, নাচ কিংবা বাদ্যযন্ত্রের প্রতি আগ্রহী। আবার কেউ কেরাত বা কোরআন তেলাওয়াতে দক্ষ হতে পারে। তাই প্রত্যেক শিশুকে তার আগ্রহ ও যোগ্যতা অনুযায়ী নিজেকে বিকশিত করার সুযোগ দিতে হবে।

গিটার ও কিবোর্ড শেখার নিজের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি শিশুদের পছন্দের বাদ্যযন্ত্র শেখার প্রতি উৎসাহ দেন। একই সঙ্গে গান, নাচ ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে সারা দেশে প্রথমবারের মতো প্রায় ২২ লাখ শিশু ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে রয়েছে।

এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের পাশাপাশি শিশুদের জন্য ক্রীড়া কার্যক্রমও নতুন করে চালুর পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়াম পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ক্রীড়া আয়োজনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, শহরের শিশুদের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদেরও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ দেশের অনেক পরিবারের পক্ষে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সন্তানদের গান, বাদ্যযন্ত্র, খেলাধুলা কিংবা অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়।

এ জন্য স্কুল পর্যায় থেকেই শিশুদের এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই কোনো না কোনো গুণ রয়েছে; প্রয়োজন শুধু সেই গুণ বিকাশের সুযোগ তৈরি করা।

সরকারপ্রধান জানান, শিশুদের পছন্দ অনুযায়ী গান, বাদ্যযন্ত্র ও খেলাধুলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির কাজ মোটামুটি গুছিয়ে আনা হয়েছে। ২০২৭ বা ২০২৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়া চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে স্কুল পর্যায় থেকে অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান ও জাপানিজসহ কয়েকটি ভাষার মধ্য থেকে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের একটি ভাষা শেখার সুযোগ পাবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, তৃতীয় একটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন ভবিষ্যতে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে পারে।

তবে শিশুদের শুধু পড়াশোনা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও ভাষাশিক্ষায় দক্ষ করে তুললেই হবে না, তাদের মানবিক মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

তিনি শিশুদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। বাড়ি, স্কুল ও আশপাশের গাছের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি পশুপাখির প্রতিও সদয় হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ একটি মানবিক সমাজ ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।