https://cns24news.com/

ইসলামী যুব আন্দোলনের বিবৃতি: ৮ মাসে ৩৫ লাখ সংশোধন, জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ: 07 Oct 2026   |   প্রতিবেদক: editor
ইসলামী যুব আন্দোলনের বিবৃতি: ৮ মাসে ৩৫ লাখ সংশোধন, জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি:

জন্ম ও মৃত্যু সনদে নাগরিকদের নাম ও বিভিন্ন তথ্যের জায়গায় ‘লক্জ্ক্’, ‘ক্‌জ্‌ক্‌ল্‌জ্‌’, ‘দতককা’, ‘LJKLJF’সহ অর্থহীন ও অদ্ভুত শব্দ যুক্ত হওয়া এবং এসব ভুল সংশোধন করতে গিয়ে নাগরিকদের ভোগান্তির ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৩৫ লাখ জন্মনিবন্ধন সংশোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতী মানসুর আহমদ সাকী এ প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেন, জন্ম ও মৃত্যু সনদ একজন নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নথি। শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, চাকরি, ব্যাংকিংসহ নাগরিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন প্রয়োজন হয়। সরকারি ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে একজন নাগরিকের নাম ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য বিকৃত হয়ে যাবে, আবার সেই ভুল সংশোধন করতেও নাগরিককে দিনের পর দিন দপ্তরে ঘুরতে হবে, সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হবে— এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মুফতী মানসুর আহমদ সাকী বলেন, নাগরিক যে ভুল করেনি, সেই ভুলের দায় কেন নাগরিক বহন করবে? রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভুলের মাশুল জনগণকে দিতে হবে, এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৫৩ লাখ ২৪ হাজারের বেশি জন্মনিবন্ধন হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৩৫ লাখ জন্মনিবন্ধন সংশোধন করা হয়েছে। গত বছর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংশোধনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৯ লাখ ১৭ হাজার।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নাম ও ঠিকানা সংশোধনের সরকারি ফি বাবদ নাগরিকদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকা আদায় হয়েছে।

ইসলামী যুব আন্দোলনের এই নেতা বলেন, এত বিপুলসংখ্যক সংশোধনের বিষয়টি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থার কার্যকারিতা, তথ্য যাচাই এবং নাগরিক সেবার মান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে সরকারি ব্যবস্থার ভুলের কারণে যেসব নাগরিকের সনদে ভুল বা অদ্ভুত তথ্য যুক্ত হয়েছে, তাদের সেই ভুল সংশোধনের জন্য হয়রানি করা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে এমন অদ্ভুত ও অর্থহীন শব্দ নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নথিতে যুক্ত হলো। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে, সরকারি ভুলে সনদে সৃষ্ট ত্রুটি বিনামূল্যে ও দ্রুত সংশোধন, ভুক্তভোগীদের হয়রানি বন্ধ এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় তথ্য যাচাই ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মুফতী মানসুর আহমদ সাকী।