https://cns24news.com/

আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

প্রকাশের তারিখ: 07 Oct 2026   |   প্রতিবেদক: editor
আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে নির্যাতনের পরদিন ৭ অক্টোবর তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তী সময়ে হত্যা মামলায় আদালতে দণ্ডিত হন ২৫ আসামি।

আবরার ফাহাদ বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুষ্টিয়ার গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরে তিনি শেরেবাংলা হলের নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ওই রাতে তাকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়।

মামলার নথি ও সাক্ষ্য অনুযায়ী, সেখানে তাকে মারধর করা হয়। পরে কয়েক দফা নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতের শেষভাগে বুয়েটের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর হলের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত তদন্তের অংশ হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের প্রভাব, আবাসিক হলে নির্যাতন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আবরার হত্যা মামলায় মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার একটি আদালত ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে যায়। ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট নথি হাইকোর্টে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে মামলাটির শুনানি শুরু হয় এবং হাইকোর্টও বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখে।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট থাকায় এর বিরুদ্ধে আপিল করেনি।

ফলে সাত বছর আগে সংঘটিত বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রমের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য এখনও উচ্চতর আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।

আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) বুধবার বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। এর আগে মঙ্গলবার আবরারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের উদ্যোগেও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুয়েটেও প্রতিবছর এ দিনটি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয়।

আবরার হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটের আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, নির্যাতন ও সাংগঠনিক আধিপত্যের বিষয়গুলো নতুন করে জাতীয় আলোচনায় আসে। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়।

আবরারের মৃত্যু শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং আবাসিক হলের পরিবেশ নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি বিতর্কের জন্ম দেয়।

সাত বছর পরও আবরার হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে তার পরিবার, সহপাঠী ও সংশ্লিষ্টদের কাছে আজকের দিনটি যেমন স্মরণের, তেমনি দ্রুত চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশারও।