নিজস্ব প্রতিনিধি:
দেশে অর্থবছরের প্রচলিত সময়সূচি পরিবর্তন করে এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত করার উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রস্তুতি শুরু করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন, বিধিমালা, উন্নয়ন কার্যক্রম ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কাছে। আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে এসব বিষয়ে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৬ থেকে গত ১৫ অক্টোবর জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল স্বাক্ষরিত চিঠিটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর, কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখায় পাঠানো হয়েছে।
চিঠি অনুযায়ী, সরকার ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ১ এপ্রিল থেকে পরবর্তী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়কে অর্থবছর হিসেবে চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। এ পরিবর্তনের আগে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে নয় মাসের একটি অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর হিসেবে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ওই অর্থবছর চলবে ২০২৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত।
নতুন সময়সূচি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর শুরুর আগেই সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্বের আওতায় বিদ্যমান আইন, বিধিমালা, পরিপত্র, স্ট্যাটিউটরি রেগুলেটরি অর্ডার (এসআরও), চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। যেখানে সংশোধন, সংযোজন বা সমন্বয় প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট সময়সীমাসহ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন শুধু বাজেটের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব পড়বে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, জাতীয় উৎপাদন ও পরিসংখ্যান হিসাব এবং বিভিন্ন সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায়।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, ভ্যাট প্রশাসন ও ট্রেজারি ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সফটওয়্যার ও আর্থিক ব্যবস্থাকে নতুন সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তাদের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত নীতিমালা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে পরিবর্তনের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার মাধ্যমে নতুন অর্থবছর চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়াই এ নির্দেশনার উদ্দেশ্য।
নির্দেশনার আওতায় রয়েছে রাজউক, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এবং হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন, আইন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, অডিট, ভূমি ব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) শাখাও এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোর কর্মপরিকল্পনা পাওয়ার পর নতুন অর্থবছর কাঠামোর সঙ্গে বিদ্যমান আইন, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার সামঞ্জস্য নির্ধারণে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।