আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পলাতক ভারতীয় অপরাধী দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান নিয়ে জাতিসংঘের এক বিশেষ প্রতিবেদকের প্রতিবেদনে গুরুতর তথ্যগত ভুল রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, দাউদ ভারতে অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেদনে যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধরনের ভুল তথ্যের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব রঘু পুরি সম্প্রতি বিষয়টি তুলে ধরেন। সন্ত্রাসবাদবিরোধী কার্যক্রম ও মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক বেন সল গত জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছেন, তা নিয়ে আপত্তি জানায় ভারত।
রঘু পুরি বলেন, ২০০৩ সালে আল-কায়েদা ও ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের তালিকাভুক্ত হওয়ার অনেক আগেই দাউদ ভারত ছেড়ে পালিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, বিদেশে অবস্থান করেই দাউদ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।
পুরি বলেন, দাউদ ইব্রাহিম এখনো ভারতে মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী। জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, তিনি সেই দেশেই অবস্থান করছেন, যেখানে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হয়েছিল।
২০১১ সালের মে মাসে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে নিহত হন বিন লাদেন। পুরির বক্তব্যে দাউদের অবস্থান হিসেবে পাকিস্তানের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ভারতের প্রতিনিধি বলেন, প্রতিবেদনে দাউদ ইব্রাহিম ও ডি-কোম্পানি নামে পরিচিত অপরাধী চক্রের বিষয়ে তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ পড়েছে।
তাঁর ভাষ্য, ২০০৩ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ দাউদকে আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে তালিকাভুক্ত করলেও তিনি ১৯৯৩ সাল থেকেই ভারতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মোস্ট ওয়ান্টেড ছিলেন। প্রতিবেদনে বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে না ধরায় ঘটনাটির অসম্পূর্ণ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে বলে অভিযোগ করেন পুরি।
এ ধরনের ভুল ও তথ্যের ঘাটতি জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পুরি আরও বলেন, প্রতিবেদনের কয়েকটি অংশে ভারত পক্ষপাতের প্রতিফলন দেখেছে। সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ কার্যালয়কে সততা ও নিরপেক্ষতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তাঁর অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের কর্মকাণ্ড আড়াল করতে মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী কাঠামোকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন।
ভারতের প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালের মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত ব্যক্তিসহ ভারতের বেশ কয়েকজন মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আর্থিক সহায়তা বন্ধের চাপ সৃষ্টি করলে পাকিস্তান কখনো কখনো তাঁদের বিরুদ্ধে লোকদেখানো ব্যবস্থা নেয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ভারত এর আগেও বলেছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হামলার পরিকল্পনাকারী আল-কায়েদা নেতারা কোনো নিয়ন্ত্রণহীন সীমান্ত এলাকায় নয়, বরং পাকিস্তানের একটি সুরক্ষিত স্থাপনায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।
পুরি বলেন, সন্ত্রাসবাদকে কোনোভাবেই ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বক্তব্যকে তিনি সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত অপপ্রচার বলে অভিহিত করেন।
এ ছাড়া জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ—নয়াদিল্লির এই অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
দাউদ ইব্রাহিমের বর্তমান অবস্থান নিয়ে ভারতের অভিযোগ এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের বিস্তারিত এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।