বিশেষ প্রতিনিধি:
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্য অটুট রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জোটের নেতারা। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্নীতি এবং সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেছেন তারা।
নেতারা আগামী ২৯ তারিখে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় প্রার্থী দেলোয়ার হোসাইনের পক্ষে জনসমর্থন বাড়ছে বলে দাবি করেন। নির্বাচনে কোনো ধরনের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হলে অতীতের মাগুরা নির্বাচনের পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য সরকারকে সতর্ক করেন তারা।
একই সঙ্গে আগামী ৩১ তারিখে ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লং মার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন নেতারা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান। মাদক ও সহিংসতা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দুর্নীতি বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে কার্যকর করা এবং গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠনের দাবি জানান তারা।
সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দলীয় বিবেচনার অভিযোগও তোলেন নেতারা। তাদের বক্তব্য, বৈষম্য দূর করার দাবিতে জুলাই আন্দোলন হলেও মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত হয়নি। অতীতে মেধা দমনের ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমানেও দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্যদের পদত্যাগে বাধ্য করা এবং নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির বিষয়েও সমালোচনা করা হয়। এসব ঘটনাকে নজিরবিহীন দলীয়করণ হিসেবে উল্লেখ করেন বক্তারা।
আগামী ২৯ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় প্রার্থী দেলোয়ার হোসাইনের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন জোটের নেতারা।
তারা বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের কারসাজি বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ক্ষেত্রে অতীতের মাগুরা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দেন তারা।
ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের বলে মন্তব্য করেন নেতারা।
ঘোষণা অনুযায়ী, ৩১ তারিখ সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে নেতাকর্মীরা জমায়েত হবেন। সকাল ৮টায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে লং মার্চ শুরু হবে।
ঢাকা থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিটি খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে। পথে ছয়টি পথসভা এবং কুষ্টিয়ায় একটি সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত হবে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম পথসভা হবে পদ্মা সেতুর ল্যান্ডিং পয়েন্টসংলগ্ন নাওডোবায়। এরপর বাগেরহাটের কাটাখালি, খুলনার বাবরি চত্বর, ফুলতলার স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুরালী মোড় এবং ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পথসভা হবে। লং মার্চের সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত হবে কুষ্টিয়া জেলা হাইস্কুল মাঠে।
কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব রাখার ওপর গুরুত্ব দেন নেতারা। যাত্রাপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তারা।
ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী এবং নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতাহারী।
এ ছাড়া এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন, জাকপার সেক্রেটারি ইকবাল, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মুফতি ফখরুল ইসলাম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রেস ব্রিফিং শেষ হয়।