নিজস্ব প্রতিনিধি:
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে সতর্কবার্তার পর বাংলাদেশ ব্যাংক, ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বন্ধ পাওয়া গেছে। শনিবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে এসব ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যায়নি।
বন্ধ থাকা ওয়েবসাইটের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক। এ ছাড়া সরকারি মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (বিজি প্রেস), বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস), পেট্রোবাংলা এবং ভূমিসেবার ওয়েবসাইটও বন্ধ পাওয়া গেছে।
সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এসব ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। তবে ওয়েবসাইটগুলো সাইবার হামলার শিকার হয়েছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার থেকে তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে বলে জানা গেছে। এরপর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আরও কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রবেশ বন্ধ পাওয়া যায়।
ব্যাংকগুলো হলো—অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক।
প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পন্ন হওয়ার পর ওয়েবসাইটগুলো পুনরায় চালু করা হতে পারে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট চালুর বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সূচি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ভূমিসেবার ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টা ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখার কথা ছিল।
এ সময়ে land.gov.bd ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ভূমিসেবা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে গত ২২ অক্টোবর জরুরি সতর্কবার্তা জারি করে সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট।
সতর্কবার্তায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের সার্ভারে পিএইচপি ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করতে বলা হয়। পাশাপাশি ব্যবহৃত সংস্করণগুলো নিরাপত্তাঝুঁকিতে রয়েছে কি না, তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে পিএইচপি বহুল ব্যবহৃত একটি প্রোগ্রামিং ভাষা। এর কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগানো সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট সার্ভার ও সফটওয়্যার সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিশেষ করে ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঝুঁকি ওয়েবসাইটের কার্যক্রম, তথ্যের সুরক্ষা এবং ডিজিটাল সেবার ধারাবাহিকতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাইয়ের সময় ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেই সেটি আক্রান্ত হয়েছে বা সেখানে নিরাপত্তা দুর্বলতা পাওয়া গেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
শনিবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটে সফল সাইবার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোন কোন প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে ঝুঁকিপূর্ণ পিএইচপি সংস্করণ ব্যবহৃত হচ্ছিল, নিরাপত্তা পরীক্ষার অগ্রগতি কী এবং ওয়েবসাইটগুলো কবে চালু হবে, এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও স্পষ্ট নয়।