নিজস্ব প্রতিনিধি:
একদিকে মাঠভরা লাউ, গাছে গাছে পেঁপে—অন্যদিকে কৃষকের চোখেমুখে হতাশা। মাসের পর মাস জমিতে শ্রম, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও পরিচর্যায় অর্থ ব্যয় করেও উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষক। কোথাও চারটি লাউ বিক্রি হচ্ছে মাত্র এক টাকায়, কোথাও এক কেজি পেঁপের দাম দুই থেকে তিন টাকা। এই দামে ফসল বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, অনেক সময় শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন ব্যয়ও মেটানো যাচ্ছে না।
অথচ রাজধানী ঢাকার বাজারে একটি লাউ কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। পেঁপের খুচরা দামও কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা। উৎপাদনস্থলে যে ফসলের মূল্য কার্যত নেই, শহরের বাজারে সেটিই কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মাঝখানের এই দীর্ঘ পথেই যেন হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের মূল্য।
প্রশ্ন উঠছে, কৃষক যখন উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না, তখন ভোক্তাকে কেন বেশি দাম দিতে হচ্ছে? কৃষক ও ক্রেতার মাঝখানে কারা কতটা অর্থ পাচ্ছেন? আর কৃষিপণ্যের বাজারব্যবস্থার দুর্বলতার দায় নেবে কে?
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় এবার লাউয়ের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে দাম পড়ে গেছে। কোথাও চারটি লাউ এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কোথাও প্রতিটি লাউয়ের দাম দুই থেকে পাঁচ টাকা। স্থানীয় খুচরা বাজারে অবশ্য একটি লাউয়ের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা।
উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করতে বিনিয়োগ করেছিলেন ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। অথচ উৎপাদিত লাউ বিক্রি করে এখন পর্যন্ত আয় হয়েছে মাত্র তিন হাজার টাকা।
এই সামান্য আয় দিয়ে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করাও সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান দুলাল। কয়েক হাজার লাউ বিক্রি করেও যে অর্থ পাওয়া যায়, তা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করাও কঠিন। শেষ পর্যন্ত লোকসানের বোঝা আর বাড়াতে না পেরে তিনি বাগান কেটে ফেলেছেন। কিছু লাউ গবাদিপশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
দুলালের মতো একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন উপজেলার ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার কৃষক আনসারুল ইসলাম। সার ও কীটনাশকের বাড়তি দাম এবং শ্রমিকের মজুরি তাঁর উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়েছে। একজন শ্রমিককে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দিতে হয়। অথচ লাউ বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র কয়েক টাকা।
এমন পরিস্থিতিতে ফসলের ভালো ফলনও তাঁর কাছে আশীর্বাদের বদলে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, জমিতে ফসল থাকলেই আয় হবে—কৃষির বাস্তবতা এখন আর তেমন নেই। বাজারে ক্রেতা ও ন্যায্য দাম না থাকলে মাঠভরা ফসলও কৃষকের লোকসানের কারণ হতে পারে।
লাউয়ের মতো পেঁপে চাষিরাও একই সংকটে পড়েছেন। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় এবার প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। অনুকূল আবহাওয়া, উচ্চফলনশীল জাতের ব্যবহার এবং চাষের জমি বাড়ায় উৎপাদনও বেড়েছে। কিন্তু বাজারে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পেঁপে আসায় দাম নেমে গেছে তলানিতে।
সিংগাইরের বিভিন্ন এলাকায় জমি থেকেই প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে তিন টাকায়। এই দামে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, জমির ভাড়া ও শ্রমিকের খরচ তোলা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক কৃষক গাছ থেকে পেঁপে সংগ্রহ করছেন না। কোথাও পাকা ফল গাছেই নষ্ট হচ্ছে, কোথাও বাগান সরিয়ে অন্য ফসল চাষের প্রস্তুতি চলছে।
গোপালনগর গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন দুই বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু বিক্রির সময় ক্রেতারা কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকার বেশি দিতে চাইছেন না। এই দামে পেঁপে বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি ও ভ্যানভাড়াই মেটানো কঠিন।
একই উপজেলার কৃষক তাজুল সিকদার লোকসান সামাল দিতে দুই বিঘা জমির পেঁপেগাছ কেটে ফেলেছেন। উৎপাদন খরচের সামান্য অংশও বিক্রি থেকে ফেরত না পাওয়ায় এখন বিকল্প ফসল চাষের কথা ভাবছেন তিনি।
এভাবে একের পর এক কৃষক যদি লোকসানের কারণে চাষাবাদ থেকে সরে দাঁড়ান, তার প্রভাব শুধু তাঁদের পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতে উৎপাদন কমে গেলে বাজারে সরবরাহ, পণ্যের দাম এবং খাদ্যব্যবস্থার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
কৃষকের দুর্দশার বিপরীতে পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধানও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ঢাকার কারওয়ান বাজারে এক সপ্তাহ ধরে কাঁচা পেঁপে কেজিপ্রতি চার থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানীর খুচরা বাজারে পেঁপের দাম প্রায় ৩০ টাকা।
গত বছরের একই সময়ে খুচরা বাজারে পেঁপের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী উৎপাদন এবং আগাম বিনিয়োগ বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
কারওয়ান বাজারের পেঁপে ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান গত বছর ভালো দাম পাওয়ার অভিজ্ঞতায় এবার পাঁচ জেলার কৃষকদের অগ্রিম তিন কোটি টাকা দিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, এবারও বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে। কিন্তু কয়েক দিন আগে কেজিপ্রতি ছয় থেকে সাত টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁপের দাম পরে চার টাকায় নেমে আসে।
মাহফুজুরের ভাষ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা ও যশোর থেকে ঢাকায় পেঁপে পরিবহন করতেই কেজিপ্রতি চার টাকার বেশি ব্যয় হয়। এ অবস্থায় কৃষকদের অগ্রিম দেওয়া তিন কোটি টাকার মধ্যে ৫০ লাখ টাকাও ফেরত পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয়ে রয়েছেন। ব্যাংকঋণ ও সুদের অর্থ পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে তিন টন পেঁপে নিয়ে কারওয়ান বাজারে এসেছিলেন ব্যবসায়ী অজি উল্যাহ। তাঁর হিসাবে, জমির ভাড়া, বীজ ও সারসহ উৎপাদন খরচ কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১২ টাকা। পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ যোগ করলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ থেকে ১৫ টাকা। অথচ বাজারে পেঁপে বিক্রি করতে হয়েছে কেজিপ্রতি ছয় থেকে আট টাকায়।
অর্থাৎ কৃষক ও ব্যবসায়ী, দুই পক্ষই লোকসানের মুখে পড়ছেন। কিন্তু খুচরা বাজারে সেই লোকসানের প্রতিফলন সমানভাবে দেখা যাচ্ছে না।
এখানেই বাজারব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে আসে: উৎপাদনস্থল থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত দামের ব্যবধানের কতটা পরিবহন, শ্রম, সংরক্ষণ ও অন্যান্য খরচের জন্য, আর কতটা প্রকৃত মুনাফা?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে কৃষকের বিক্রয়মূল্য, পাইকারি দর, পরিবহন ব্যয়, বাজারের খরচ এবং খুচরা বিক্রেতার বিক্রয়মূল্য নিয়ে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। শুধু দুই প্রান্তের দাম তুলনা করে কারও অতিরিক্ত মুনাফার পরিমাণ নির্ধারণ করা যায় না। তবে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে দামের এত বড় ব্যবধান কেন তৈরি হচ্ছে, তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা জরুরি।
বাজারে আগাম শীতকালীন সবজি আসতে শুরু করায় কিছু পণ্যের পাইকারি দামও কমছে। বগুড়ার মহাস্থান পাইকারি বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পটোলের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থেকে কমে ২৫ থেকে ৩০ টাকা হয়েছে। করলার দাম ৫৫ টাকা থেকে কমে ৪৫ টাকা, ফুলকপির দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা থেকে কমে ৬০ টাকা এবং মুলার দাম ৩৫ টাকা থেকে কমে ২২ টাকা হয়েছে।
কিন্তু পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে একই হারে কমার চিত্র দেখা যায়নি। বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজারে পটোল কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা এবং ফুলকপি ১৬০ টাকা দরে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
এ চিত্র থেকে বোঝা যায়, কৃষিপণ্যের দাম শুধু উৎপাদনের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। বাজারে সরবরাহ, চাহিদা, পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা এবং বিপণনের বিভিন্ন ধাপও চূড়ান্ত দামে প্রভাব ফেলে। তবে কোন ধাপে কতটা মূল্য সংযোজন হচ্ছে, তা নিরূপণে আরও বিস্তারিত বাজারতথ্য প্রয়োজন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় ক্রেতাদের আগ্রহের পরিবর্তন ঘটেছে। পাশাপাশি লাউ ও পেঁপে সারা বছর পাওয়া যায় বলে এসব পণ্যের চাহিদায় প্রভাব পড়ছে।
তাঁর মতে, লাউ ও পেঁপের আবাদ এবং উৎপাদন, দুটিই বেড়েছে। অনেক জেলায় উচ্চফলনশীল হাইব্রিড জাতের চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়লেও চাহিদা সেই অনুপাতে না বাড়ায় দাম কমে গেছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান মনে করেন, লাউ ও পেঁপের দরপতন দেশের কৃষিপণ্যের বিপণনব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করছে। তাঁর মতে, উৎপাদন বাড়লেই কৃষকের আয় বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে দ্রুত পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে বাজারে একসঙ্গে সরবরাহ বেড়ে গেলে কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করেন।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের সংকট বারবার দেখা দিতে পারে। ভোক্তারা কম দামে পণ্য কিনে সাময়িকভাবে লাভবান হলেও কৃষক উৎপাদন খরচ তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে ওই ফসল চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন।
এ পরিস্থিতিতে কৃষকের লোকসান কেবল একটি মৌসুমের সমস্যা নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষিমূল্য কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ড. জাহাঙ্গীর আলম খান। ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দেশটিতে নির্দিষ্ট কিছু কৃষিপণ্যের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইসের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি ফসলবিমা এবং সরকারি পর্যায়ে কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও মজুতের ব্যবস্থাও আছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও কৃষকের উৎপাদন খরচ, বাজারের চাহিদা এবং সম্ভাব্য সরবরাহ বিবেচনায় নিয়ে ফসল পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উৎপাদন অঞ্চল থেকে ভোক্তাপর্যায়ে কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা, কৃষক সমবায়ের মাধ্যমে বাজারজাতকরণ এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারে নিয়মিত মূল্যতথ্য প্রকাশের উদ্যোগও দামের ব্যবধান বুঝতে সহায়তা করতে পারে। তবে এসব উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, বাস্তবায়ন, তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার অর্থ কেবল তাঁদের লোকসান ঠেকানো নয়; একই সঙ্গে ভোক্তার জন্য সহনীয় দাম এবং বাজারে স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে কখনো কৃষক উৎপাদিত পণ্যের দাম পাবেন না, আবার কখনো ভোক্তাকে অতিরিক্ত মূল্য দিতে হবে।
লাউ ও পেঁপের বর্তমান সংকট একটি মৌলিক বাস্তবতা সামনে এনেছে, ভালো ফলন মানেই কৃষকের ভালো আয় নয়। কৃষক উৎপাদন করেন, কিন্তু বাজারে কোন সময়ে কত পণ্য আসবে, সেই সরবরাহ কীভাবে সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়াজাত করা হবে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাছে কত দামে পৌঁছাবে, তার ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ সীমিত।
একদিকে মাঠে পচছে কৃষকের ফসল, অন্যদিকে শহরের বাজারে ক্রেতাকে দিতে হচ্ছে তুলনামূলক বেশি দাম। এই বৈপরীত্যের সমাধান খুঁজতে হলে শুধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দায়ী করলেই চলবে না; পুরো বিপণনব্যবস্থার খরচ, মুনাফা, প্রতিযোগিতা ও দুর্বলতা স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা করতে হবে।
কারণ, কৃষক যদি উৎপাদন খরচই তুলতে না পারেন, আর ভোক্তাকেও যদি বেশি দাম দিতে হয়, তাহলে বর্তমান বাজারব্যবস্থা থেকে প্রকৃত সুবিধা কারা পাচ্ছেন—সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। ন্যায্যমূল্য, স্বচ্ছ বাজারতথ্য, সংরক্ষণব্যবস্থা ও কার্যকর বিপণন নিশ্চিত করা না গেলে মাঠের এই অপচয় আর শহরের উচ্চমূল্যের বৈপরীত্য বারবার ফিরে আসবে।