https://cns24news.com/

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি, নিত্যপণ্যে কমছে না চাপ

প্রকাশের তারিখ: 25 Oct 2026   |   প্রতিবেদক: editor
সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি, নিত্যপণ্যে কমছে না চাপ

বিশেষ প্রতিনিধি:

রাজধানীর বাজারে কয়েক দিনের ঊর্ধ্বগতির পর কিছুটা কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। বেশিরভাগ সবজির কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। টমেটো, বরবটি, করলা, ধুন্দল ও ঝিঙার দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ-মাংস এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। ফলে সংসারের খরচ সামলাতে এখনো চাপে রয়েছেন ক্রেতারা।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর মেরাদিয়া, খিলগাঁও, রামপুরা, বনশ্রী ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে পটল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ৩৫, করলা ৮০ থেকে ১০০, কাঁকরোল ৮০, ধুন্দল ৬০, ঝিঙা ৭০, চিচিঙ্গা ৫০, বেগুন ৮০ থেকে ১৩০, টমেটো ১৫০ থেকে ১৬০, শিম ১২০, ঢ্যাঁড়স ৫০, ফুলকপি ৬০, মুলা ৬০ এবং পেঁপে ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বরবটির কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, যা কয়েক দিন আগেও ১০০ থেকে ১২০ টাকা ছিল।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। কয়েক দিন আগে টমেটোর কেজি ২৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এখন তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দামও ২০০ টাকা থেকে কমে ১৮০ টাকায় নেমেছে বলে জানান ব্যবসায়ী রুম্মান।

মেরাদিয়া বাজারের এই ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে এবং তাঁরা আগের তুলনায় কম দামে পণ্য কিনতে পারছেন। তাঁর ধারণা, সরবরাহ অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমতে পারে।

আরেক ব্যবসায়ী সুজন বলেন, সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। তবে পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হলে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।

সবজির দাম কিছুটা কমলেও ক্রেতাদের প্রত্যাশা আরও বেশি। তাঁদের প্রশ্ন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করার পরও কেন অনেক সবজি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকবে।

বাজার করতে আসা কানিজ ফাতিমা বলেন, এই সময়ে পটলের কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা হওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, পটলের দাম ৩০ টাকার মধ্যে থাকা উচিত। কয়েক দিন আগের তুলনায় দাম কমলেও আরও কমানো প্রয়োজন।

ক্রেতা আকবর হোসেন বলেন, সবজির ভরা মৌসুমেও যদি উচ্চমূল্য বজায় থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে না। তাঁর মতে, শুধু সবজির দাম সামান্য কমলেই হবে না; নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে।

সবজির বাজারে দাম কমার প্রবণতা থাকলেও মাছ-মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারে কক মুরগি প্রতি কেজি ৩৬০ টাকা, ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি ৮২০ টাকা। মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।

মাছের বাজারে আকারভেদে রুই ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দাম কেজিপ্রতি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা।

এদিকে চাল, ডাল, আটা, ময়দা, চিনি, আদা, রসুন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পণ্যের দামও ক্রেতাদের বাড়তি খরচের মধ্যে রাখছে। বাজারে দুই কেজি ময়দার দাম ১৮০ টাকা, চিনি কেজি ১১০ টাকা, প্যাকেট আটা কেজি ৭০ টাকা এবং খোলা আটা ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মোটা মসুর ডাল কেজি ১০০ টাকা এবং চিকন মসুর ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। আদা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং রসুন ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, একদিকে কিছু সবজির দাম কমলেও অন্যদিকে মাছ-মাংস ও বিভিন্ন নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য বজায় থাকায় বাজার খরচে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি মিলছে না। তাঁদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি ও পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার মাধ্যমে দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে আনা প্রয়োজন।