নিজস্ব প্রতিনিধি:
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সামিট এলএনজি টার্মিনাল ৩০০তম শিপ-টু-শিপ (এসটিএস) স্থানান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পরিচালন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ মাইলফলক অর্জন করেছে সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড (এসএলএনজি)।
রোববার (২৫ অক্টোবর) কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ মাইলফলক উদযাপনের কথা জানানো হয়।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টার্মিনালটি দেশের মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ১৮ শতাংশ সরবরাহ করেছে। ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল কার্যক্রম শুরুর পর থেকে টার্মিনালটি ৪ কোটি ১৮ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৪ ঘনমিটার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) গ্রহণ করেছে। এ সময়ে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে প্রায় ৯৪ কোটি ৫৩ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৬ এমএমবিটিইউ রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি)।
এসএলএনজি জানিয়েছে, নিরাপদ, দক্ষ ও নিরবচ্ছিন্ন শিপ-টু-শিপ স্থানান্তর এবং টার্মিনাল পরিচালনায় এক্সিলারেট এনার্জি এলপি ও সিঙ্গাপুরের পিএসএ মেরিন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকার, পেট্রোবাংলা, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল), বিদেশি ঋণদাতা এবং বিভিন্ন প্রকৌশল ও শ্রেণিবিন্যাস অংশীদারের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, কাতারগ্যাস, বিপি, শেল, টোটাল, শেভরন শিপিং, চেনিয়ার এনার্জি, পেট্রোনাস ও এনএলএনজিসহ আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠান টার্মিনালটিকে নিরাপদ ও মানসম্মত স্থাপনা হিসেবে যাচাই করেছে।
টার্মিনালটির কার্যক্রমে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সহযোগিতা করছে বলে জানিয়েছে এসএলএনজি। এলএনজি সরবরাহকারী ও জাহাজ পরিচালনাকারী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অবদানের কথাও তুলে ধরেছে তারা।
২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে মহেশখালীতে অফশোর এলএনজি গ্রহণকারী টার্মিনালটির নির্মাণ, মালিকানা ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে এসএলএনজি। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই সরকার টার্মিনালটিকে গ্রেড-১ (GA) কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন (কেপিআই) হিসেবে ঘোষণা করে।
টার্মিনালটিতে জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তর ও সংরক্ষণ, গ্যাসকে পুনরায় গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তর এবং ৫ দশমিক ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতলদেশের পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন নেটওয়ার্কে আরএলএনজি সরবরাহ করা হয়। সামিট করপোরেশনের ৭৫ শতাংশ এবং মিতসুবিশির ২৫ শতাংশ মালিকানায় পরিচালিত এ যৌথ উদ্যোগের কর্মীদের নিরাপত্তা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বেরও প্রশংসা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।