নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশিক্ষণ সক্ষমতা, আধুনিক কারিগরি শিক্ষা এবং দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কার্যক্রম দেখতে গাজীপুরের সফিপুরে বাহিনীর একাডেমি পরিদর্শন করেছেন সিঙ্গাপুর, মরক্কো, কসোভো ও মালদ্বীপের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা।
সোমবার পরিদর্শনকালে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রতিনিধিদলকে প্রশিক্ষণ অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মমুখী শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সম্পর্কে অবহিত করেন।
তিনি বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো, আধুনিকায়ন, সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে এর ভূমিকা তুলে ধরেন। মহাপরিচালক জানান, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাহিনীতে বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বস্তরে ৫০ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ এবং নিজস্ব এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সদস্যদের একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কে যুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও ‘প্রকল্প সঞ্জীবন’-এর মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং তৃণমূল পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছে বাহিনী। পাশাপাশি জাপানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন ও নৈতিক অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরে কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল প্রান্তিক শক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (পিএসটিসি) পরিদর্শন করেন। সেখানে তাঁরা ৬জি ওয়েল্ডিং, সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ড্রাইভিং সিমুলেটর, ভ্রাম্যমাণ তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রশিক্ষণ, কুটিরশিল্প, জাপানি ভাষা, আতিথেয়তা ও রন্ধনশিল্পসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া নির্মাণ, ড্রাইভিং ও পোশাকশিল্পের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কেও তাঁদের ধারণা দেওয়া হয়।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিরা প্রশিক্ষণের ব্যবহারিক দিক, আধুনিক সরঞ্জাম এবং কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সম্পর্কে অবহিত হন। তাঁরা প্রশিক্ষণব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বাহিনীর ছয় কোটির বেশি নয়, বরং ৬০ লাখেরও বেশি সদস্যের নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান, আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়ানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণ দেশীয় শিল্প ও সেবা খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা পূরণ এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী জনশক্তি গড়তেও ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনীন রশিদ, কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা, সিঙ্গাপুরের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ফিলিপ ওং এবং মরক্কোর রাষ্ট্রদূত লাল্লা বুতাইনা এল কেরদৌদি এল কৌলালি।