চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখার অঙ্গীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম সার্জেন্ট ও ৪৩তম সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচের ছয় মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর শক্তির ভিত্তি হলো চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্ব।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হবে। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন এবং জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নবীন কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে সরকার একটি পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে প্রাধান্য দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্রিটিশ আমলের পুলিশ আইন পরিবর্তন করে সময়োপযোগী আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। পুলিশের আচরণে অপরাধীদের মধ্যে আইনের ভয় এবং নিরপরাধ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে হবে।
সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ ডিজিটাল ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় নবীন কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। আইনের প্রতি অবিচল আস্থা, নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং জবাবদিহি হতে হবে কর্মকর্তাদের কাজের মূল ভিত্তি।
মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যক্তি, সমাজ ও দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। তাই মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে ২৭তম সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন পুরুষ সদস্য প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। অন্যদিকে, ৪৩তম এসআই ব্যাচের ১৬২ জনের মধ্যে পাঁচজন নারী ও ১৫৭ জন পুরুষ সদস্য রয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে অভিবাদন গ্রহণ ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। পরে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী আটজনের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।
বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ মাইনুল হাসান বিপিএম, পিপিএম, এনডিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০০৭ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটপরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ১২০ জন সার্জেন্ট ও ২০৭ জন সাব-ইন্সপেক্টরসহ মোট ৩২৭ জন পুলিশ সদস্য চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং পুনর্বাসন যাচাই কমিটির পর্যালোচনার পর ৮৪ জন সার্জেন্ট ও ১৬২ জন সাব-ইন্সপেক্টর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এসআইদের মধ্যে পাঁচজন নারী রয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।