নিজস্ব প্রতিনিধি
যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য মাস্টার্স ও পিএইচডি বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ লক্ষ্যে ফুলব্রাইট কর্মসূচির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত সমঝোতার আওতায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক সহযোগিতা, শিক্ষক ও গবেষক বিনিময় এবং যৌথ গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং বাস্তবায়নপদ্ধতি নির্ধারণে ইউজিসি ও ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউজিসি ভবনে কমিশন এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি বিভাগের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য বাংলাদেশের শিক্ষক ও গবেষকদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষাবিদদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষক ও গবেষক বিনিময় এবং যৌথ গবেষণা উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে দেশে ও বিদেশে শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য ফেলোশিপের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ইউজিসি।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ আরও বলেন, ফুলব্রাইট কর্মসূচির সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা গড়ে উঠলে বাংলাদেশের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক একাডেমিক বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।
এদিকে, ‘ইউজিসি-ফুলব্রাইট’ নামে একটি পৃথক কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও করছে কমিশন। এর আওতায় দেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে গবেষণার জন্য পিএইচডি বৃত্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলর স্কট হার্টম্যান ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রামসহ কর্মসূচিটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করবে এবং বাস্তবায়নের কাঠামো নির্ধারণ করে সমঝোতা স্মারকের খসড়া তৈরি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ফুলব্রাইট কর্মসূচি শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর জে. উইলিয়াম ফুলব্রাইটের উদ্যোগে ১৯৪৬ সালে কর্মসূচিটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
সভায় ইউজিসির সদস্য মো. আসলাম হোসেন, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের উপাচার্য সামসাদ মর্তূজা, ইউজিসির সচিব মো. ফখরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পাবলিক এনগেজমেন্ট স্পেশালিস্ট রায়হানা সুলতানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।