বিনোদন ডেস্ক:
চার দশকেরও বেশি সময় ভারতে বসবাসের পর দেশ ছাড়ার নির্দেশ পেয়েছেন মার্কিন নাগরিক ও অভিনেতা ইমরান খান। তাঁকে দেওয়া শোকজ নোটিশের ভিত্তি হিসেবে যেসব নথি ও প্রতিবেদন ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর অনুলিপি চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর ওভারসিজ সিটিজেনশিপ অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড বাতিলের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ইমরানের অভিযোগ, মুম্বাই পুলিশের দেওয়া নথি ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হলেও সেগুলো সরবরাহ করা হয়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথাযথ জবাব দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না তিনি।
গত ২২ অক্টোবর বিদেশি নাগরিকদের নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেন ইমরান। সেখানে তিনি জানান, গত ১৭ অক্টোবর তাঁকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশে মুম্বাই পুলিশের জমা দেওয়া কয়েকটি নথি ও প্রতিবেদনের উল্লেখ থাকলেও সেগুলোর অনুলিপি তাঁকে দেওয়া হয়নি।
ইমরানের ভাষ্য, অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে যেসব নথি ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো না দেখে যথাযথ জবাব দেওয়া সম্ভব নয়। নোটিশে তাঁর নামে যে বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে, সেটিও অসম্পূর্ণ বলে দাবি করেছেন তিনি। এ ছাড়া এফআইআর-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মুম্বাই পুলিশ তাঁর বক্তব্য নথিভুক্ত করার চেষ্টা করেনি বলেও অভিযোগ করেন অভিনেতা।
চিঠিতে ইমরান বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যেসব নথির ওপর নির্ভর করা হচ্ছে, সেগুলো তাঁকে দেওয়া হলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে। নোটিশে উল্লেখ করা কারণগুলোও অস্পষ্ট ও পরস্পরবিরোধী বলে দাবি করেছেন তিনি। প্রয়োজনীয় নথি না পেলে নিজের অবস্থান যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারবেন না এবং এর ফলে তাঁর ওসিআই কার্ড বাতিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের অগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে তরুণদের একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির এলাকায় উপস্থিত ছিলেন ইমরান। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ওই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। এর পরই অভিনেতাকে ভারত ছাড়ার নোটিশ পাঠানো হয়। ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছিল।
নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ইমরান। মঙ্গলবার আদালত ২ নভেম্বর পর্যন্ত নোটিশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। মামলার জবাব দেওয়ার জন্য বিদেশি নাগরিকদের নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা দপ্তর আরও সময় চেয়েছে। আদালতে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, মূল সময়সীমা অনুযায়ী ২৮ অক্টোবর তাঁকে ভারত ছাড়তে হবে না।
ইমরান দাবি করেছেন, তিনি কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করেননি। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় সেখানে কোনো বিক্ষোভ চলছিল না বলেও দাবি তাঁর। পুলিশি ব্যারিকেড টপকে প্রতিবাদস্থলে প্রবেশের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন অভিনেতা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ির দিকে ফেরার সময় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। এরপর তাঁকে আটক করা হয়।
মার্কিন নাগরিক ইমরানের বক্তব্য, ওসিআই কার্ডধারীদের জন্য পৃথক আইনি বিধান রয়েছে। ভারতে চার দশকের বেশি সময় বসবাসের পরও তাঁর বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়াকে অতিরিক্ত কঠোর বলে মনে করেন তিনি।
সূত্র: দ্য ওয়াল