ফিচার ডেস্ক:
হেমন্তের আগমনে প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছে ছাতিম ফুলের মিষ্টি সুবাস। সবুজাভ সাদা ফুলের গুচ্ছ আর মাদকতাময় ঘ্রাণ প্রকৃতি প্রেমীদের মুগ্ধ করছে। চা বাগানের নির্জন কোণে কিংবা ছড়ার পাশে ফুটে থাকা ছাতিম ফুল প্রকৃতিতে যোগ করেছে অনন্য সৌন্দর্য।
সকালে হাঁটতে বের হলে সবুজ পাতার আড়ালে ফুলগুলো সহজে চোখে নাও পড়তে পারে। তবে সন্ধ্যা কিংবা রাতে এর সুগন্ধ অনেক দূর থেকে অনুভব করা যায়। বিশেষ করে বাংলা আশ্বিন ও কার্তিক মাসে ছাতিম ফুলের সুবাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
ছাতিমের বৈজ্ঞানিক নাম Alstonia scholaris। এটি Apocynaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি সুগন্ধি বৃক্ষ। সংস্কৃত ভাষায় একে ‘সপ্তপর্ণ’ বা ‘সপ্তপর্ণা’ বলা হয়। গাছটির পাতাগুলো সাধারণত গুচ্ছাকারে সাজানো থাকে, যেখানে প্রায় সাতটি পাতা দেখা যায়।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ছাতিম গাছের বিশেষ স্থান রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ছাতিমপাতা উপহার দেওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে। এটি শিক্ষাজীবনের স্বীকৃতি ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
প্রখ্যাত উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও প্রকৃতিবিষয়ক আলোকচিত্রী ড. নওয়াজেশ আহমদ তাঁর লেখায় ছাতিম গাছের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেছেন।
ভারতীয় উপমহাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ছাতিম গাছ জন্মে। অনুকূল পরিবেশে গাছটি প্রায় ৪০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এর নরম কাঠ দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ড, পেনসিল ও প্যাকিংবক্স তৈরি করা হয়।
সৌন্দর্য ও সুগন্ধের পাশাপাশি পরিবেশের জন্যও ছাতিম গুরুত্বপূর্ণ। এর ফুলে মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগবাহী পতঙ্গ আকৃষ্ট হয়। এসব পতঙ্গ পরাগায়ণসহ পরিবেশের নানা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।
বৃক্ষনিধন ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বাড়তে থাকা চাপের সময়ে ছাতিমের মতো দেশীয় গাছ সংরক্ষণ জরুরি। বৃক্ষরোপণে শুধু দ্রুতবর্ধনশীল গাছের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পরিবেশের উপযোগী নানা প্রজাতির গাছ লাগানো প্রয়োজন।
সুগন্ধি ফুল, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরিবেশগত গুরুত্ব, সব মিলিয়ে ছাতিম গাছ আমাদের দেশীয় প্রকৃতির এক অনন্য সম্পদ।