নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা হচ্ছে অন্যায়-অবিচার, একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনা। এ চেতনা ধারণ করে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
শুক্রবার রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করা এবং বিরোধী মত দমনের ঘটনা ঘটেছে। তৎকালীন রক্ষীবাহিনীর বিরুদ্ধে ৩৪ হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে তিনি বলেন, ৩ নভেম্বরের পাল্টা অভ্যুত্থানের পর বন্দি জিয়াউর রহমানকে সিপাহিরা মুক্ত করেন। সেদিন সাধারণ মানুষও সিপাহিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছিল। তাঁর মতে, সিপাহিরা বিপ্লব সংঘটিত করেছিলেন, আর জনগণ তাতে সংহতি জানিয়েছিল।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কোনো ব্যক্তি বা দলের একক সম্পত্তি নয়। স্বাধীনতার বিভিন্ন পর্যায়ে যাঁরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের সবাইকে যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, সরকার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক নিয়োগ এবং র্যাবের নাম পরিবর্তন করে কাঠামো বহাল রাখার উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, ন্যায়সংগত বিষয়ে বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতা করবে, আর অন্যায় হলে প্রতিবাদ করবে। জনগণের অধিকার ও সংস্কার বাস্তবায়নে জামায়াত সাত দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।