https://cns24news.com/

২০ বছর পর রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হলো ৭ নভেম্বর, ঢাকাসহ সারা দেশে নানা কর্মসূচি

প্রকাশের তারিখ: 08 Nov 2026   |   প্রতিবেদক: editor
২০ বছর পর রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হলো ৭ নভেম্বর, ঢাকাসহ সারা দেশে নানা কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিনিধি:

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আলোচনা সভা, র‌্যালি, সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দিবসটির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। পরে আর্মি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), বাংলাদেশ স্কাউটসসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

দিবসটি উপলক্ষে বিএনপির শোভাযাত্রা নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, রমনা পার্ক সড়ক, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, ফার্মগেট ও ইন্দিরা রোড হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। পথে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষকে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়।

আয়োজকদের দাবি, শোভাযাত্রায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে শোভাযাত্রাটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছায়।

দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। ৩ নভেম্বর সেনা অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়। এর পর ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানে তিনি মুক্তি পান। পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার বিন্যাসে এ ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষকের কাছে দিনটির তাৎপর্য নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। বিএনপি দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে এবং জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিপাহি-জনতার ঐক্যের ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের বাইরে থাকার সময় দিবসটির রাষ্ট্রীয় উদযাপন বন্ধ হয়। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে তা পুনরায় চালু করে। তবে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আবারও রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালন বন্ধ হয়ে যায়। এবার দীর্ঘ বিরতির পর নির্বাচিত সরকারের আমলে দিবসটি পুনরায় রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হলো। চলতি বছর দিবসটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের হাল ধরে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তিনি জিয়াউর রহমানকে দেশপ্রেমিক নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধের চেতনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। দেশের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার মানসিকতা গড়ে তোলাই ৭ নভেম্বরের অন্যতম প্রতিপাদ্য।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে একটি হল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।

জেলা-উপজেলায় নানা আয়োজন

বগুড়ায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ টিটু মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন এবং পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ।

কুষ্টিয়ায় জেলা প্রশাসন ও বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা, র‌্যালি, সমাবেশ ও ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলার আয়োজন করা হয়। গাইবান্ধায় স্থানীয় স্টেডিয়াম মিলনায়তনে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন। শেরপুর, নাটোর, গাজীপুর ও সিরাজগঞ্জেও আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সিরাজগঞ্জে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যেও রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ উঠে আসে।

এ ছাড়া পটুয়াখালী, ভোলা, নীলফামারী, যশোরের কেশবপুর, পুঠিয়া, উল্লাপাড়া, রাণীনগর, পার্বতীপুর, গফরগাঁও, মুক্তাগাছা, মোরেলগঞ্জ, মনোহরগঞ্জ, আখাউড়া ও চিরিরবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়।

বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা কর্মসূচিতে অংশ নেন। আলোচনা সভা, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়।