https://cns24news.com/

পদত্যাগপত্র জমার দুই মাস পর অব্যাহতি, চুয়েট রেজিস্ট্রারের প্রশ্ন প্রক্রিয়া নিয়ে

প্রকাশের তারিখ: 08 Nov 2026   |   প্রতিবেদক: editor
পদত্যাগপত্র জমার দুই মাস পর অব্যাহতি, চুয়েট রেজিস্ট্রারের প্রশ্ন প্রক্রিয়া নিয়ে

কুয়েট প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর। দায়িত্ব ছাড়তে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রায় দুই মাস পর গত শুক্রবার ই-মেইলের মাধ্যমে তাকে অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়।

অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট থেকে নিজের নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি চুয়েটের রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত ১ সেপ্টেম্বর তিনি তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের কাছে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রার তাকে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি জানান। তার লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে অব্যাহতির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, পদত্যাগপত্রটি তিনি বর্তমান উপাচার্যের কাছে জমা দেননি; জমা দিয়েছিলেন আগের উপাচার্যের কাছে। সে কারণে আগের উপাচার্যই পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করলে ভালো হতো বলে মনে করেন তিনি।

অব্যাহতির প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়ে অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর বলেন, প্রচলিত নিয়মে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর তা নথি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। উপাচার্য অনুমোদন দিলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে অফিস আদেশ জারি করা হয়। কিন্তু তার ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, তাকে শুধু ই-মেইল পাঠিয়ে অব্যাহতির কথা জানানো হয়েছে। ওই ই-মেইলে কোনো স্মারক নম্বর ছিল না, এমনকি তার নামও উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধু ‘আপনাকে অব্যাহতি দেওয়া হলো’ বলে জানানো হয়েছে।

তবে অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর নিশ্চিত করেন, তিনি গত ১ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েই রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের আবেদন করেছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগের প্রতিবাদে ওই রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটডাউন ও ধর্মঘট শিথিল করা হলেও প্রশাসনিক অচলাবস্থা পুরোপুরি কাটেনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন এখনো তালাবদ্ধ রয়েছে।