https://cns24news.com/

বিচ্ছেদের পর প্রাক্তনকে ভুলে সামনে এগিয়ে যাবেন যেভাবে

প্রকাশের তারিখ: 30 Sep 2026   |   প্রতিবেদক: editor
বিচ্ছেদের পর প্রাক্তনকে ভুলে সামনে এগিয়ে যাবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

একটি সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তার স্মৃতি সহজে শেষ হয় না। একসঙ্গে কাটানো সময়, পুরোনো কথোপকথন, প্রিয় জায়গা কিংবা কোনো বিশেষ গান—হঠাৎ করেই এসব মনে করিয়ে দিতে পারে প্রাক্তনকে। তখন মন খারাপ, একাকিত্ব, রাগ কিংবা হতাশা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

তবে বিচ্ছেদের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগে—এটাই স্বাভাবিক। নিজেকে জোর করে অতীত থেকে বিচ্ছিন্ন করার বদলে ধীরে ধীরে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নিজের জীবনকে নতুনভাবে সাজানোই হতে পারে কার্যকর পথ।

কিছুটা দূরত্ব রাখুন

বিচ্ছেদের পর বারবার প্রাক্তনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট দেখা, পুরোনো ছবি খোঁজা কিংবা আগের কথোপকথন পড়া আবেগকে আবার সক্রিয় করে তুলতে পারে। তাই সম্ভব হলে কিছুদিন এসব থেকে দূরে থাকা ভালো।

সম্পূর্ণ যোগাযোগ বন্ধ করা সম্ভব না হলে অন্তত অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ কমিয়ে আনুন। প্রয়োজনের বাইরে নিয়মিত অনলাইন পর্যবেক্ষণ থেকেও বিরত থাকুন।

অনুভূতিকে অস্বীকার করবেন না

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর কষ্ট, রাগ, হতাশা বা শূন্যতা অনুভব করা স্বাভাবিক। এসব অনুভূতিকে দুর্বলতা মনে করে চেপে রাখার প্রয়োজন নেই।

নিজের মনের কথা ডায়েরিতে লিখতে পারেন। ছবি আঁকা, গান শোনা, বই পড়া কিংবা বিশ্বাসযোগ্য কারও সঙ্গে কথা বলাও অনেকের জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে। তবে আবেগের মধ্যে ডুবে না থেকে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজগুলোও চালিয়ে যাওয়া জরুরি।

পুরোনো অভ্যাসের জায়গায় নতুন কিছু আনুন

একটি সম্পর্কের সঙ্গে দিনের অনেক অভ্যাস জড়িয়ে থাকে। বিচ্ছেদের পর সেই অভ্যাসগুলো হঠাৎ বদলে গেলে শূন্যতা আরও বেশি অনুভূত হতে পারে। তাই পুরোনো রুটিনের জায়গায় নতুন কিছু যোগ করা যেতে পারে।

নতুন কোনো ভাষা শেখা, বই পড়া, রান্না, বাদ্যযন্ত্র শেখা, খেলাধুলা কিংবা সৃজনশীল কাজে যুক্ত হওয়া সময়কে অর্থবহ করে তুলতে পারে। নতুন অভিজ্ঞতা ও শেখার সুযোগ মনকে অতীত থেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে আনতেও সাহায্য করতে পারে।

শরীরচর্চা করুন

মানসিক চাপের সময় শরীরচর্চা একটি ভালো অভ্যাস হতে পারে। নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার, যোগব্যায়াম কিংবা পছন্দের অন্য কোনো ব্যায়াম শরীরকে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি মেজাজ ও ঘুমের ক্ষেত্রেও উপকারী হতে পারে।

তবে শরীরচর্চাকে নিজেকে শাস্তি দেওয়ার উপায় হিসেবে না দেখে সুস্থ থাকার দৈনন্দিন অভ্যাস হিসেবে নেওয়াই ভালো।

পরিবার ও বন্ধুদের কাছাকাছি থাকুন

বিচ্ছেদের পর নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এতে একাকিত্ব আরও বাড়তে পারে। তাই পরিবার, বন্ধু বা বিশ্বাসযোগ্য মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

সব কথা সবাইকে বলতে হবে এমন নয়। তবে এমন একজন মানুষ খুঁজে নেওয়া যেতে পারে, যার কাছে নিজের অনুভূতি স্বচ্ছন্দে প্রকাশ করা যায়।

দৈনন্দিন জীবন নতুন করে সাজান

সম্পর্কের সময়কার অনেক পরিকল্পনা বা অভ্যাস বিচ্ছেদের পর আর আগের মতো থাকে না। তাই নিজের দিনের সময়সূচি নতুনভাবে সাজানো যেতে পারে।

কাজ, পড়াশোনা, পরিবার, বন্ধু, শরীরচর্চা কিংবা নতুন কোনো দক্ষতা অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখা যেতে পারে। প্রতিদিনের ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করার অভ্যাসও নিজের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।

শুধু ভালো স্মৃতির মধ্যে আটকে থাকবেন না

বিচ্ছেদের পর অনেকেই সম্পর্কের সুন্দর সময়গুলোই বেশি মনে করেন। এতে অতীতকে বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর মনে হতে পারে।

তাই সম্পর্কটির পুরো চিত্রটি মনে করার চেষ্টা করুন। ভালো সময়ের পাশাপাশি মতবিরোধ, ভুল বোঝাবুঝি, অমিল কিংবা যে বিষয়গুলো সম্পর্কটিকে কঠিন করে তুলেছিল, সেগুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। এতে অতীতকে অতিরিক্ত আদর্শায়িত করার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।

নিজেকে সময় দিন

প্রাক্তনকে ভুলে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। কারও ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, আবার কারও বেশি সময় লাগতে পারে।

অন্য কারও সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার তুলনা না করে নিজের গতিতে এগিয়ে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সবকিছু স্বাভাবিক করে ফেলতে হবে—এমন চাপ নিজের ওপর না দেওয়াই ভালো।

অতীতকে মেনে নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকান

প্রাক্তনকে ভুলে যাওয়া মানে জীবনের সব স্মৃতি মুছে ফেলা নয়। বরং সম্পর্কটিকে জীবনের একটি অধ্যায় হিসেবে গ্রহণ করে ধীরে ধীরে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে মনোযোগ ফেরানোই গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের পড়াশোনা, কাজ, পরিবার, বন্ধুত্ব, ব্যক্তিগত আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিলে জীবনের অন্য দিকগুলোও আবার অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।

আর বিচ্ছেদের পর দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র মন খারাপ, অতিরিক্ত উদ্বেগ, ঘুম বা খাওয়ার সমস্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে বিষয়টি একা সামলানোর চেষ্টা না করে বিশ্বস্ত মানুষ বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। সাহায্য নেওয়া দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং নিজের যত্ন নেওয়ারই একটি অংশ।