Homeঅর্থনীতিবিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ১০৬ ডলার

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ১০৬ ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে এশিয়ার অধিকাংশ শেয়ারবাজারেও দরপতন হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার দর ব্যারেলপ্রতি ৬৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৯১ ডলারে উঠেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৭২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা সপ্তাহান্তে আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে চলতি সপ্তাহেই আলোচনা আবার শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ অবশ্য এতে কমেনি। তাদের আশঙ্কা, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভকে মুদ্রানীতি আরও কঠোর করতে হতে পারে বলেও বাজারে আলোচনা রয়েছে।

সোমবার ট্রাম্প অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদনও অস্বীকার করেন। ওই প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিলে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং বিদেশে জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তাব দিয়েছে।

তবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওই প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় বা জব্দ করা অর্থ ছাড়ের বিষয়ে তিনি কোনো প্রস্তাব দেননি।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিময় হওয়া বিভিন্ন বার্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্তও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে মনে করছেন, নভেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হওয়া কঠিন।

বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। একই সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দাব প্রণালী ঘিরেও নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

বিএমও ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্লেষক ইয়ান লিংগেন বলেন, সংঘাত আরও কিছু সময় বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে এবং সরবরাহে বিঘ্নের বাস্তবতার সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মানিয়ে নিতে হতে পারে।

মঙ্গলবার প্রধান দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সংঘাত নিরসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জ্বালানির দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের মোটরচালকদের সংগঠন আরএসি জানিয়েছে, দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিটের তিন প্রধান সূচক সোমবার দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ করায় মঙ্গলবার এশিয়ার শেয়ারবাজারেও চাপ দেখা যায়। টোকিও, সিউল, হংকং, সাংহাই, সিঙ্গাপুর, তাইপে, ওয়েলিংটন, ম্যানিলা ও সিডনির শেয়ারবাজারে সূচক কমেছে।

সোমবার বড় ধরনের দরপতনের পর মঙ্গলবারও স্বর্ণের দাম প্রায় ৪ হাজার ১৬০ ডলারের আশপাশে ছিল। সুদের হার বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশায় সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমেছে।

এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এসব তথ্য ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। অক্টোবরের শেষে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও বাজারে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments