লাইফস্টাইল ডেস্ক
গরমের সময়ে ঘাম, ধুলাবালি ও স্ক্যাল্পে ময়লা জমার কারণে অনেকের চুলের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে চুল পড়া অন্যতম। চুলের গোড়া ও স্ক্যাল্পের নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি ঘরোয়া কিছু উপাদানও পরিচর্যায় ব্যবহার করা যায়।
তবে চুল পড়ার পেছনে পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন, বংশগত কারণ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। তাই অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত চুল পড়লে কারণ নির্ণয়ের জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডিম ও অলিভ অয়েল
চুলের পরিচর্যায় ডিম ও অলিভ অয়েল দিয়ে তৈরি হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি ডিমের সঙ্গে সামান্য অলিভ অয়েল মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। এরপর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করা যেতে পারে।
নারকেলের দুধ
নারকেলের দুধও চুল ও স্ক্যাল্পে ব্যবহার করা যায়। নারকেল কুচি সামান্য পানি দিয়ে ব্লেন্ড করে পরিষ্কার কাপড় বা ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে দুধ বের করে নিতে হবে। এরপর তা চুল ও স্ক্যাল্পে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
মেথির ব্যবহার
মেথি হালকা ভেজে গুঁড়া করে নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। মিশ্রণটি স্ক্যাল্পে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ রেখে পরে ধুয়ে ফেলুন। স্ক্যাল্পে ব্যবহারের সময় জোরে ঘষাঘষি করা উচিত নয়।
মেহেদিতে যত্ন
চুলের পরিচর্যায় বহুদিন ধরে মেহেদি ব্যবহার হয়ে আসছে। মেহেদির পাতা বেটে তেলের সঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগানো যেতে পারে। তবে নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। এতে অ্যালার্জি বা অন্য কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না, তা বোঝা যায়।
দৈনন্দিন যত্নও জরুরি
চুল পড়ার সমস্যা কমাতে শুধু ঘরোয়া উপাদানের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত চুল ও স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার বিষয়েও নজর দেওয়া প্রয়োজন। চুলে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার ও স্ক্যাল্পে জোরে ঘষাঘষি এড়িয়ে চলাও ভালো।
নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরও যদি চুল পড়ার সমস্যা অব্যাহত থাকে বা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তাহলে ঘরোয়া পদ্ধতিতে সময় নষ্ট না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ চুল পড়ার প্রকৃত কারণ জানা গেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।
