তানভীর রায়হান:
দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর ব্যবসায় বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জ্বালানি তেল বিপণনকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও গ্যাস বিতরণের সঙ্গে যুক্ত কিছু কোম্পানি পড়েছে আর্থিক চাপে। কোথাও মুনাফা কমেছে, কোথাও লোকসান বেড়েছে। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়লেও পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থের প্রবাহ ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। লোকসানে থাকা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও কমেছে।
কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন চিত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে পদ্মা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারপ্রতি আয় ৪০ টাকা ছাড়িয়েছে। বিপরীতে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার ও তিতাস গ্যাস রয়েছে লোকসানে। তবে সব বিদ্যুৎ কোম্পানির পরিস্থিতি এক রকম নয়। ডেসকো ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ আগের বছরের লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরেছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের তালিকাভুক্ত ২৩টি কোম্পানির মধ্যে ২২টির হিসাব বছর জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে লিন্ডে বাংলাদেশের হিসাব বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর; প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের প্রথম নয় মাসের হিসাব প্রকাশ করেছে।
শেয়ারপ্রতি আয়ের হিসাবে খাতটির শীর্ষে রয়েছে পদ্মা অয়েল। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৪ টাকা ২ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে তা ছিল ৪০ টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ, শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৩ টাকা ৮২ পয়সা।
একই সময়ে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারপ্রতি আয় ৩৮ টাকা ৬ পয়সা থেকে বেড়ে ৪১ টাকা ৫১ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এ হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৩ টাকা ৪৫ পয়সা।
তবে তেল বিপণনকারী সব প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়েনি। যমুনা অয়েলের শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের ৩৬ টাকা ৬৫ পয়সা থেকে কমে ২৬ টাকা ৫৭ পয়সায় নেমেছে। অর্থাৎ, শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে ১০ টাকা ৮ পয়সা।
এদিকে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের শেয়ারপ্রতি আয় ১৭ টাকা ২৮ পয়সা থেকে বেড়ে ২৮ টাকা ৬৪ পয়সা হয়েছে। অন্যদিকে এমজেএল বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি আয় ৮ টাকা ৯ পয়সা থেকে কমে ৫ টাকা ৯১ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয়ও ১৯ টাকা ৩২ পয়সা থেকে কমে ১৪ টাকা ৬৯ পয়সা হয়েছে।
লিন্ডে বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি আয় চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে হয়েছে ১৭ টাকা ৭৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১৮ টাকা ৮০ পয়সা।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি চাপে রয়েছে। এর মধ্যে এনার্জিপ্যাক পাওয়ারের লোকসান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১ টাকা ৯ পয়সা। ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের একই সময়ে তা বেড়ে ৭ টাকা ৬২ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
লুব-রেফ বাংলাদেশও মুনাফা থেকে লোকসানে পড়েছে। আগের হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১১ পয়সা। এবার শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ২২ পয়সা।
তিতাস গ্যাসও লোকসানের মধ্যে রয়েছে। তবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান আগের বছরের ৯ টাকা ৫৮ পয়সা থেকে কমে ৬ টাকা ২১ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে জিবিবি পাওয়ার ও ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন মুনাফায় থাকলেও উভয় প্রতিষ্ঠানের আয় কমেছে। জিবিবি পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি আয় ১০ পয়সা থেকে কমে ৯ পয়সা হয়েছে। ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের ক্ষেত্রে তা ১ টাকা ৮ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ১৫ পয়সায়।
তবে বিদ্যুৎ খাতের কয়েকটি কোম্পানি ভালো করেছে। বারাকা পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি আয় ২৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৮৭ পয়সা হয়েছে। বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের আয় ৭৪ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৮৬ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারির শেয়ারপ্রতি আয় ২ টাকা ৩৫ পয়সা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৮ পয়সা হয়েছে। সামিট পাওয়ারের আয়ও ১ টাকা ৪৬ পয়সা থেকে সামান্য বেড়ে ১ টাকা ৪৭ পয়সা হয়েছে।
ডেসকো ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের আর্থিক ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ডেসকো আগের হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৯৮ পয়সা লোকসান করলেও এবার ১ টাকা ৪৬ পয়সা মুনাফা করেছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশও আগের বছরের শেয়ারপ্রতি ৩৪ পয়সা লোকসান কাটিয়ে এবার ৬ টাকা ২৪ পয়সা মুনাফা করেছে।
এ ছাড়া শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৮৩ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ৩৭ পয়সা এবং খুলনা পাওয়ার কোম্পানির আয় ১৩ পয়সা থেকে বেড়ে ৭৩ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়নে শুধু মুনাফার হিসাব যথেষ্ট নয়। পরিচালন কার্যক্রম থেকে কতটা নগদ অর্থ আসছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হিসাবের খাতায় মুনাফা থাকলেও নগদ অর্থের প্রবাহ দুর্বল হলে দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো, দেনা পরিশোধ এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগে চাপ তৈরি হতে পারে।
এই সূচকে পদ্মা অয়েল ও যমুনা অয়েলের আর্থিক চিত্র উদ্বেগজনক। পদ্মা অয়েলের শেয়ারপ্রতি আয় বাড়লেও ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৫৪ টাকা ৮৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ঋণাত্মক ২৭ টাকা ২১ পয়সা।
যমুনা অয়েলের শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহও ঋণাত্মক ১৩৪ টাকা ৩৪ পয়সায় নেমেছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির এ সূচক ছিল ৮৮ টাকা ২৬ পয়সা। অর্থাৎ, মুনাফা করলেও পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থের প্রবাহে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে।
অন্যদিকে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের পরিচালন নগদ প্রবাহ ইতিবাচক রয়েছে। তবে আগের বছরের তুলনায় তা কমেছে। চলতি হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ১১৮ টাকা ৬১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৪৯ টাকা ৩১ পয়সা।
বিদ্যুৎ খাতেও নগদ প্রবাহে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। ডেসকোর শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ৮ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ৮৫ পয়সা হয়েছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা ১৫ টাকা ৪৭ পয়সা থেকে বেড়ে ১৭ টাকা ৩৬ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
বিপরীতে তিতাস গ্যাসের শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ আগের বছরের ১৪ টাকা ২ পয়সা থেকে কমে ঋণাত্মক ১০ টাকা ৮৮ পয়সা হয়েছে। বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের এ সূচক ঋণাত্মক ৫ টাকা ৪৮ পয়সা থেকে আরও কমে ঋণাত্মক ৮ টাকা ৬২ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে বারাকা পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ৪ টাকা ৩৭ পয়সা থেকে কমে ঋণাত্মক ৪০ পয়সা হয়েছে।
শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভির হিসাবেও তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে পদ্মা অয়েলের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ৩০২ টাকা ৮৭ পয়সা, যা ২০২৫ সালের জুনে ছিল ২৭৪ টাকা ৮৬ পয়সা। মেঘনা পেট্রোলিয়ামের নিট সম্পদমূল্য ২৭৮ টাকা ৫১ পয়সা থেকে বেড়ে ৩০০ টাকা ২ পয়সা হয়েছে। যমুনা অয়েলের ক্ষেত্রেও তা ২৭৪ টাকা ৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২৮১ টাকা ২৮ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ১৩৯ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বেড়ে ১৫০ টাকা ১১ পয়সা হয়েছে। ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের ক্ষেত্রে তা ১৩৯ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৬২ টাকা ৯১ পয়সা হয়েছে। ইউনাইটেড পাওয়ারের নিট সম্পদমূল্যও ৭৩ টাকা ৮৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৮২ টাকা ৮ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
তবে এনার্জিপ্যাক পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ৩২ টাকা ৮৬ পয়সা থেকে কমে ২৫ টাকা ২১ পয়সা হয়েছে। লুব-রেফ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা ৩২ টাকা ৭২ পয়সা থেকে কমে ৩০ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। তিতাস গ্যাসের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও ৯০ টাকা ১৩ পয়সা থেকে কমে ৮৩ টাকা ৭২ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর তুলনামূলক ভালো মুনাফার পেছনে ব্যবসার ধরন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণে বড় বিনিয়োগ, উৎপাদন ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তন কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থায় চাপ তৈরি করছে।
মেঘনা পেট্রোলিয়ামের কোম্পানি সচিব ফারহানা আখতার বলেন, “ধারাবাহিক ভালো মুনাফা করার পেছনে আমাদের বিশেষ কোনো পলিসি নেই। আমরা ব্যবসা করছি, মুনাফা হচ্ছে। আর আমাদের কোম্পানির যা কিছু আছে, সবকিছুই বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।”
জিবিবি পাওয়ারের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ সাত্তার হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ কোম্পানির তুলনায় তেল কোম্পানিগুলো কেন ভালো মুনাফা করছে, তা তাঁর পক্ষে বলা সম্ভব নয়। তবে তাঁদের কোম্পানির একটি প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলোর অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সঞ্চালন লাইন, কেবল ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু সেই বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মাত্রায় আয় বা মুনাফা না আসায় কোম্পানিগুলোর ওপর ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়।
তাঁর মতে, অতীতে কিছু বিদ্যুৎ কোম্পানি বিদেশি মুদ্রায় ঋণ নিয়েছে। সে সময় ডলারের বিনিময় হার তুলনামূলক কম থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা বেড়েছে। ফলে ডলারে নেওয়া ঋণের মূল টাকা ও সুদ পরিশোধে টাকার হিসাবে ব্যয় বেড়েছে, যা কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থাকে আরও চাপে ফেলেছে।
অন্যদিকে পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলের মতো তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় তুলনামূলকভাবে কম অবকাঠামোগত বিনিয়োগ প্রয়োজন হয় বলে মনে করেন মনিরুজ্জামান। তাঁর ভাষ্য, এসব কোম্পানির মূল কাজ তেল সংগ্রহ ও সারা দেশে বিতরণ করা। বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানির মতো বিশাল অবকাঠামো নির্মাণে তাদের একই ধরনের বিনিয়োগ করতে হয় না। পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যকাঠামোর মধ্যে তেল বিপণনে একটি মার্জিন বা ব্যবধান থেকে আয় করার সুযোগ থাকে, যা মুনাফাকে তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখতে পারে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলো ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান থেকে আয় করে। তাঁর ব্যাখ্যায়, তেলের ক্রয়মূল্য বাড়লেও বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মার্জিন ধরে রাখার সুযোগ থাকায় এসব কোম্পানি তুলনামূলক ভালো মুনাফা করতে পারে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ে। কিন্তু সে অনুপাতে বিদ্যুতের বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করা না হলে কোম্পানিগুলোকে বাড়তি ব্যয়ের চাপ বহন করতে হয়।
ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির প্রভাবও তুলে ধরেন মিনহাজ মান্নান ইমন। তিনি বলেন, আগে ডলারের দাম প্রায় ৯০ টাকা থাকলেও তা বেড়ে ১২৭ টাকায় পৌঁছেছে। এতে যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য উপকরণ আমদানির ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের বিক্রয়মূল্য একই অনুপাতে না বাড়ায় কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
এ ছাড়া অতীতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন খাত থেকে যে ধরনের আয় ও সুবিধা পেত, বর্তমানে সেগুলো আগের মতো নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়া এবং আয় বাড়ানোর সীমাবদ্ধতা মিলিয়ে কিছু বিদ্যুৎ কোম্পানি লোকসানের মুখে পড়েছে।
সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আর্থিক চিত্র বলছে, শুধু মুনাফার অঙ্ক দিয়ে কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা বিচার করা যায় না। আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচালন নগদ প্রবাহ, সম্পদমূল্য এবং ব্যয় সামাল দেওয়ার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়লেও নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক থাকলে তার আর্থিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নে আরও তথ্য প্রয়োজন। একইভাবে লোকসান কমা ইতিবাচক হলেও তা একাই আর্থিক পুনরুদ্ধারের নিশ্চয়তা দেয় না। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানির মুনাফা, নগদ প্রবাহ, সম্পদমূল্য ও ব্যবসার কাঠামো একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা জরুরি।



