আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলার মধ্যেই সৌদি আরব সফরে গেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বুধবার (২১ অক্টোবর) সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। এ সফরে ফ্রান্সের জ্বালানি নিরাপত্তা, তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং তেলের বিকল্প উৎস বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে সফর করছেন ম্যাক্রোঁ। ফ্রান্সে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চাপের মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে প্যারিস।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার বিকেলে সৌদি আরবে পৌঁছে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে ম্যাক্রোঁর। সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের হামলার ঘটনায় দেশটির প্রতি সংহতি প্রকাশও এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর হামলা বেড়েছে। এসব হামলার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলনও স্থগিত করা হয়েছে।
সৌদি বন্দরগুলো অবরোধের প্রচেষ্টাও দেশটির তেল রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের জন্য এ পরিস্থিতি জ্বালানি অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ম্যাক্রোঁর সৌদি সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ফ্রান্সে বিক্ষোভ চলছে। এ পরিস্থিতিতে দেশে পেট্রল ও ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানো এবং সরবরাহের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা ফ্রান্সের এ প্রচেষ্টার অংশ। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তেল পরিবহনে সম্ভাব্য বিঘ্ন নিয়েও দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ম্যাক্রোঁর এ সফর তাই শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতার দিক থেকেও তা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: এএফপি



