অনলাইন ডেস্ক:
অফিসের মিটিংয়ে আলোচনার বিষয়ে ধারণা ও প্রয়োজনীয় মতামত থাকা সত্ত্বেও অনেকেই কথা বলতে দ্বিধা করেন। ভুল বলার ভয়, সহকর্মীদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে অস্বস্তি—এসব কারণে শেষ পর্যন্ত নীরব থাকেন। মনোবিজ্ঞানে অন্যের মূল্যায়ন নিয়ে এই ভয়কে বলা হয় ‘ইভালুয়েশন অ্যাপ্রিহেনশন’। ফলে কাজের দক্ষতা থাকলেও অনেকের অবদান আলোচনায় উঠে আসে না।
জনপ্রিয় স্পিকিং কোচ ও লেখক অ্যান্ডি ও’সুলিভানের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৯ শতাংশ পেশাজীবী মিটিংয়ে কথা বলতে উদ্বেগ অনুভব করেন। এ অভিজ্ঞতা থেকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও মুক্ত নন।
তবে কিছু প্রস্তুতি এই জড়তা কাটাতে সাহায্য করতে পারে। মিটিংয়ের আগে আলোচ্য বিষয়, নিজের কাজের অগ্রগতি, সম্ভাব্য সমস্যা ও প্রস্তাবগুলো সংক্ষেপে লিখে রাখুন। সভা শুরুর প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে অন্তত একবার কথা বলার চেষ্টা করুন। বড় বক্তব্যের প্রয়োজন নেই; একটি প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় তথ্য বা ছোট পরামর্শ দিয়েও আলোচনায় যুক্ত হওয়া যায়।
বক্তব্য নিখুঁত করার চাপ না নিয়ে প্রথমে মূল বিষয়টি তুলে ধরুন। ভুল হলে অস্বস্তিতে থেমে না গিয়ে সংশোধন করে কথা চালিয়ে যান। মনে রাখবেন, নিজের ভুলকে অন্যরা যতটা গুরুত্ব দেবে বলে আমরা ভাবি, বাস্তবে তা অনেক সময় ততটা নয়। মনোবিজ্ঞানে একে ‘স্পটলাইট ইফেক্ট’ বলা হয়।
মিটিংয়ে সফল হওয়ার অর্থ বেশি কথা বলা নয়; বরং প্রয়োজনের সময় নিজের চিন্তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা। নিয়মিত চর্চাই আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং পেশাগত অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।



