Homeরাজনীতিমিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

বিশেষ প্রতিনিধি

রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় সিটি করপোরেশনের কয়েকটি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আক্রান্ত হন। পুলিশের সঙ্গেও ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া অভিযান চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও বাধার মুখে পড়েন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১৩ থেকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেটসংলগ্ন ফুটপাতে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য উচ্ছেদ কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনস্বার্থে ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রয়োজন থাকলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা এবং স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, মিরপুরের ওই এলাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার মানুষের সুবিধা-অসুবিধার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হলে পরিস্থিতি আরও সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হতো।

সংসদ সদস্য বলেন, আগে থেকে আলোচনা ও সমন্বয় করা হলে সংঘাতের পরিবর্তে কার্যকর উপায়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা যেত। একই সঙ্গে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যাতে হঠাৎ করে জীবিকা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তার মতে, শুধু উচ্ছেদ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ফুটপাত দখলের পেছনে কারা জড়িত, কীভাবে সেখানে ব্যবসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি জড়িত কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে তাদের সেখানে ব্যবসা করার সুযোগ দিয়ে আসছে। দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

চাঁদাবাজির সমালোচনা করে সংসদ সদস্য বলেন, এভাবে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব সাধারণ ক্রেতা ও জনগণের ওপর পড়ে। তাই শুধু ফুটপাত উচ্ছেদ নয়, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া দরকার। পুনর্বাসন বা বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ ছাড়া হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে অনেক পরিবার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে অভিযান পরিচালনার বিষয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, এ ধরনের বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগে আলোচনা করলে পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হতো।

ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশন, পুলিশ, প্রশাসন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় করার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি সমস্যারই সমাধানের পথ রয়েছে। তবে সেই সমাধান হতে হবে নিরপেক্ষ, বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক। কাউকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমেই উভয় দিকের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব।

এ সময় তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কোনো জায়গা থাকা উচিত নয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments