ড. মুহম্মদ ইদ্রিছ ভূইয়া:
যদি মামলায় ভালো ফলাফল পেতে বা জিততে চান, তবে আইনজীবীর কাছে সত্য গোপন করবেন না। একজন আইনজীবীর কাছে আপনার মামলার সব সত্য খুলে বলুন, তা আপনার পক্ষে হোক বা বিপক্ষে, তাতে কোনো সমস্যা নেই। মনে রাখবেন, আপনি যে তথ্য গোপন করছেন, তা বিচারকের সামনে প্রতিপক্ষের মাধ্যমে হঠাৎ প্রকাশ পেলে আপনার আইনজীবী বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়বেন। আর মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে আইনি কৌশল নির্ধারণ করলে আপনার মামলাও শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আপনার আইনজীবী আপনার বিচারক নন; তিনি আপনার পক্ষে আইনি সুবিধা আদায়ের প্রতিনিধি। যদি কোনো তথ্য আপনার বিপক্ষেও যায়, আগে তাঁকে জানান। তা গোপন করবেন না। কারণ, সত্য জানলেই তিনি সম্ভাব্য ঝুঁকি বুঝে উপযুক্ত আইনি কৌশল নির্ধারণ করতে পারবেন।
মোটকথা, আইনজীবীর কাছে সত্য গোপন করা মানে নিজের মামলাকেই দুর্বল করা। সত্য বলুন, সঠিক আইনি পরামর্শ নিন এবং আইনসম্মত প্রতিকার পাওয়ার চেষ্টা করুন।
ইদানীং অনেকের মধ্যে একটি প্রবণতা দেখা যায়। কোনো একটি ঘটনা ঘটলে অভিযুক্ত ব্যক্তিটির পক্ষে আদালতে আইনজীবীরা দাঁড়াবেন না, অথবা যাতে না দাঁড়ান, সে জন্য প্রচারণা চালানো হয়।
আইনবিজ্ঞান সমাজবিজ্ঞানের উপরিস্তর বা সুপারস্ট্রাকচার। আইনজীবীরা কেন একজন মারাত্মক অপরাধীর পক্ষে দাঁড়ান, তা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা হলে বিচারব্যবস্থার প্রচলিত পদ্ধতির প্রতি হুমকি বা অনাস্থা প্রদর্শন করা হয়, যা ঠিক নয়।
অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিশ্বজুড়ে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, “No one should be condemned unheard”, যার অর্থ হলো, ‘অন্য পক্ষের বক্তব্য না শুনে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়।’ এটি বিশ্বব্যাপী আইনি ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার ও প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতার অন্যতম মূল ভিত্তি (Foundation Pillar of Natural Justice and Procedural Fairness)। এ বিষয়ে যাঁরা আগ্রহী, তাঁরা আইনবিজ্ঞান বা জুরিসপ্রুডেন্স ভালোভাবে পড়ে গবেষণাপত্র লিখতে পারেন।
কেউ কারও দৃষ্টিতে দৃশ্যমান অপরাধী বলে মনে হলেই, তাঁর পক্ষে আদালতে দাঁড়ানোর কারণে উত্তেজিত হয়ে আবেগতাড়িতভাবে আইনজীবীদের ঢালাও দোষারোপ করবেন না। বরং মনে রাখবেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষেও আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাই আইনের শাসনের অন্যতম দৃষ্টান্ত।
লেখক: একজন আইনজ্ঞ ও ইদ্রিছ এডুকেশনের নেটওয়ার্ক (IEN)-এর প্রতিষ্ঠাতা।



