Homeজাতীয়মেয়াদ শেষ, সিলেট-ছাতক রেলপথ পুনর্বাসনে অগ্রগতি মাত্র ২১–২৫%

মেয়াদ শেষ, সিলেট-ছাতক রেলপথ পুনর্বাসনে অগ্রগতি মাত্র ২১–২৫%

২১৭ কোটি টাকার প্রকল্পে ট্রেন চালুর অপেক্ষা, ভোগান্তিতে যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা

সিলেট প্রতিনিধি:

নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও সিলেট-ছাতকবাজার রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ২১ থেকে ২৫ শতাংশ। ২১৭ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের এ প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের ২৩ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় বর্ধিত মেয়াদেও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সুনামগঞ্জের ছাতকসহ আশপাশের এলাকার যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে রয়েছেন।

রেলওয়ে সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের অগ্রগতি ২১ শতাংশ। অন্যদিকে প্রকল্প পরিচালক মো. মহিউদ্দিন আরিফের দাবি, এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ২৫ শতাংশ। অগ্রগতির হিসাব নিয়ে এ পার্থক্য থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চে সিলেট-ছাতক রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও এ রুটে আর ট্রেন চালু হয়নি। এর মধ্যে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় রেলপথটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজ শুরু হতে সময় লাগে।

অবশেষে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিলেট-ছাতকবাজার সেকশন পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ৩৪ কিলোমিটার রেলপথটি পুনর্বাসনে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা। প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড।

প্রকল্পের আওতায় রেলপথে মাটি ভরাট, কালভার্ট নির্মাণ, সেতু মেরামত এবং নতুন স্লিপার ও রেললাইন বসানোর কাজ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরোনো রেললাইন অপসারণের কাজ শেষ হয়েছে। স্টেশনের পাইলিংয়ের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিভিন্ন স্থানে পুনর্বাসনের কাজ ধীরগতিতে চলছে। দীর্ঘদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় কোথাও কোথাও পুরোনো রেলপথ ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। কোনো কোনো অংশে রেলপথের অস্তিত্বও সহজে বোঝা যায় না।

একসময় শিল্পনগর হিসেবে পরিচিত ছাতকের সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত এ রেলপথ। ১৯৫৪ সালে স্থাপিত রেললাইনটি দিয়ে বালু, পাথর, চুনাপাথর, সিমেন্ট ও কৃষিপণ্য পরিবহন করা হতো। ছাতকের শিল্পকারখানা ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গেও রেল যোগাযোগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের এখন সড়কপথে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। স্থানীয় কৃষি ও শিল্পপণ্যের পরিবহনে রেলপথটি আবার চালু করা জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।

একসময় এ রুটের ট্রেন খাজাঞ্চিগাঁও, সৎপুর ও আফজালাবাদ স্টেশনে যাত্রাবিরতি করত। ফলে এসব এলাকার যাত্রীদেরও রেল যোগাযোগের সুবিধা ছিল। দীর্ঘদিন ট্রেন না চলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক মো. মহিউদ্দিন আরিফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলেট-ছাতকবাজার রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ এ পর্যন্ত ২৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। তবে নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ না হওয়ার পরও প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে এবং কবে ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে, সে বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

রেলওয়ের নথিতে প্রকল্পের অগ্রগতি ২১ শতাংশ উল্লেখ থাকায় এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অগ্রগতির হিসাবের ব্যাখ্যা নেওয়াও জরুরি।

দীর্ঘদিন রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করে ট্রেন চলাচল চালু করা গেলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও কমতে পারে। এতে ছাতকের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে আর কত সময় প্রয়োজন, বর্ধিত মেয়াদ কত দিন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ার কারণ কী, এসব বিষয়ে রেলওয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বন্ধ থাকা রেলপথটি সচল করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ চান স্থানীয়রা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments