নিজস্ব প্রতিনিধি:
ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই সব ধর্মের মানুষ রাষ্ট্রে সমান অধিকার ভোগ করবেন।
শুক্রবার রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডের মানুষ পরস্পরের ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিয়ে আসছেন। উৎসব সব ভেদরেখা ও বিভাজন দূর করে মানুষকে একত্র করে এবং ঐক্যের ভিত্তি দৃঢ় করে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে একই ভূখণ্ডে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন এবং একে অপরের উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। রমনা কালীমন্দিরের দুর্গাপূজার আয়োজনেও অন্য ধর্মের মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ জন্য পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার অনেকেই পছন্দ করেন না। এ কারণে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য গত এক মাস ধরে সারা দেশে দলের নেতাকর্মীদের প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিজভী বলেন, এবার দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দুই লাখ ১২ হাজারের বেশি আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে, যা আগের উৎসবগুলোর তুলনায় বেশি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও প্রতিটি পূজামণ্ডপে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উৎসব সফল করতে কাজ করছেন।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূজার ছুটি এক দিন বাড়িয়েছেন। এতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এবার পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন। প্রতিটি মন্দিরের জন্য চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখন থেকে প্রতিটি মন্দির সরকারিভাবে প্রতি মাসে আট হাজার টাকা বরাদ্দ পাবে। হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরোহিত ও সেবায়তদের উৎসব ভাতার সঙ্গে আরও তিন হাজার টাকা যুক্ত করা হচ্ছে।
রিজভী বলেন, “ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হতে পারে, কিন্তু এ দেশের মানুষ হিসেবে সবাই রাষ্ট্রের নাগরিক। মুসলমান, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ—সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।” অন্তর্ভুক্তিমূলক এই চিন্তা নিয়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ও বিএনপি কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে দুর্গাপূজার সাফল্য কামনা করে রিজভী বলেন, সবাই যেন পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আনন্দমুখর পরিবেশে উৎসব উদযাপন করতে পারেন। অন্য ধর্মের মানুষও এই আনন্দে শামিল হয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



