Homeজাতীয়গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্য তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন।

রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী জানান, শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির একপর্যায়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে এলে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়।

প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, ওই এলাকায় যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা ছিল।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে আত্মরক্ষার জন্য অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়। তাঁর দাবি, ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত।

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করার পর তাদের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় এলাকায় যৌথ অভিযান চালানো হয়। এ সময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদক, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তবে জব্দ করা মাদকের পরিমাণ, আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং অভিযানের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত জুনে মাদক-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকা পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন। মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবলসংকট দূর করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি চিঠিও দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই সর্বশেষ মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

ঘটনার ভিডিও ও ছবি প্রকাশের বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু সংবাদমাধ্যম অস্ত্র হাতে তাঁর উপস্থিতির দৃশ্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করলেও অভিযানের অন্যান্য দিক, পুলিশের ভূমিকা এবং মাদক উদ্ধারের বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরেনি।

তিনি বলেন, ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যের ভিত্তিতে সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। সংবাদ প্রকাশের আগে পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট যাচাই করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা তাঁর অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও অভিযান ও সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

তবে অস্ত্র প্রদর্শনের পরিস্থিতি, অভিযানের বিস্তারিত এবং আটকের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments