Homeবিবিধআইন আদালতবিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আপিল শুনানি ৮ ডিসেম্বর

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আপিল শুনানি ৮ ডিসেম্বর

বিশেষ প্রতিনিধি:

বহুল আলোচিত দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি আগামী ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক শুনানির এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরান ঢাকায় ১৮-দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে হামলার শিকার হন দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলায় তিনি নিহত হন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ৫ মার্চ মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ছাত্রলীগের ২১ কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলার রায়ে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা।

২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের দেওয়া ৮০ পৃষ্ঠার রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। অন্য ছয় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে চারজনের সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিবর্তন করা হয় এবং বাকি দুজনকে খালাস দেওয়া হয়।

মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আট আসামি হলেন রফিকুল ইসলাম শাকিল, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন, সাইফুল ইসলাম, কাইয়ুম মিঞা টিপু, রাজন তালুকদার ও মীর মো. নূরে আলম লিমন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামি হলেন এএইচএম কিবরিয়া, ইউনুস আলী, তারিক বিন জোহর তমাল, গোলাম মোস্তফা, আলাউদ্দিন, ওবায়দুর কাদের তাহসিন, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল-আমিন, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, মোশাররফ হোসেন ও কামরুল হাসান। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়।

পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১৩ আসামির মধ্যে দুজন আপিল করে খালাস পান। বাকি ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রয়েছে।

মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির পর এবার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি হতে যাচ্ছে। আগামী ৮ ডিসেম্বরের শুনানিতে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রায়সহ সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলো আপিল বিভাগের বিবেচনায় আসবে।

বিশ্বজিৎ দাসের পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারে একটি দর্জির দোকান ছিল। তাঁর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments